বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ‘ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক’ নিয়ে ব্যাংকের মনগড়া ব্যাখ্যায় One Time Exit আবেদন প্রত্যাখ্যান

অনাদায়ী ঋণ সমন্বয়ের জন্যে বিশেষ Exit সুবিধা প্রদান করে Circular জারি করেছে। অর্থাৎ One Time Exit সুবিধা প্রদান করে একটি Circular জারি করেছে, Circular নং ২৩। এখন বিপত্তিটি ঘটেছে যে এই Circular-এর মধ্যে একটি বিষয় আছে, সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিপত্তি তৈরি হয়েছে, ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে, অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে। অপব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, প্রচার হচ্ছে। সেই অস্পষ্টতা, সেই বিপত্তি দূর করবার জন্যেই আজকের এই পদক্ষেপ। বিপত্তিটি যেখান থেকে সৃষ্টি হয়েছে সেটি হচ্ছে যে, এই Circular-এর মধ্যে দুটো কথা বলা আছে। সেটি হচ্ছে যে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং ব্যাংকার গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে এই যে যারা বিশেষ Exit চান তাদের এই আবেদনটি মঞ্জুর করা হবে কি হবে না। তাহলে এখানে যে ব্যাংকার এবং গ্রাহকের সম্পর্কের যেই বিষয়টি বলা হয়েছে, সেই বিষয়ে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে বিপত্তি তৈরি হচ্ছে এইরকম যে ব্যাংকাররা এই Point-টিকে ধরে নাকচ করে দিচ্ছেন আবেদনগুলো এবং নাকচ করে দেয়ার সময় ছোট অজুহাত, কোনো একটি Point কিংবা কোনো একটি লেনদেন অথবা কোনো একটি কিস্তি অথবা ছোট্ট একটি অজুহাত ধরে, যদি কোনো কিছু নাও পান, ছোট্ট একটি অজুহাত ধরে নাকচ করে দেয়া হচ্ছে। এবং বলা হচ্ছে প্রশান্তির সাথে এই যে, যেহেতু ওখানে বলা হয়েছে ব্যাংকার গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে, অতএব আপনার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না, এই কারণে ভালো না, এটার কোনো Definition নাই, এই সম্পর্ক এরকম। এই যে ব্যাখ্যাটি দাঁড় করানো হচ্ছে এতে একটি অযথার্থ ব্যাখ্যা চলে যাচ্ছে মানুষের কাছে। একটি বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে এটিও বলা হচ্ছে যে যেহেতু এখানে বলা হয়েছে যে ব্যাংকার এবং গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে, এই কথাটি ধরেও এই কথা বলা হচ্ছে যে, যেহেতু এখানে আমাদের সাথে Relationship-এর বিষয় আছে, অতএব এই বিষয়ে মহামান্য High Court বিভাগে Writ করেও আপনি তেমন সুবিধা করতে পারবেন না। যারা সুবিধাটি চাচ্ছেন তাদেরকে এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে। আমাদের সারাদেশে যে Client-রা আছে আমাদেরকে প্রচুর পরিমাণ তথ্য দিচ্ছেন, আমাদেরকে বলছেন যে, এই যে ব্যাংকার এবং গ্রাহকের যে সম্পর্কের ভিত্তির কথাটি আছে এটি ধরে ব্যাংকাররা নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা দিয়ে নামঞ্জুর করছে এবং এ ধরনের কথা বলছে। এই ব্যাখ্যাটি অযথার্থ এবং Writ Petition দায়ের করে প্রতিকার পাবে না মর্মে যে কথা বলা হচ্ছে সেটিও ঠিক নয়, পুরোপুরি ভুল। কীভাবে ভুল? যারা ব্যাখ্যাটি দিচ্ছেন আশা করি আজকের এই কথার মধ্য দিয়ে, আজকের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে তারা উপকৃত হবেন।

ধরুন একজন গ্রাহক এই Exit সুবিধা পেতে আবেদন করলেন, তার সমস্ত Criteria fill up হলো, এখানে যে Ingredient-গুলো আছে দরখাস্তের মধ্যে সেগুলো Satisfied করা হলো, তিনি যথার্থভাবে আবেদন করলেন। কিন্তু ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হলো যে, তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না, আমরা এটা নামঞ্জুর করে দিলাম, প্রত্যাখ্যান করে দিলাম, Reject করে দিলাম, তাই না? হ্যাঁ, এই জায়গাটিতেই আমাদের কথা যে, তিনি যখন সঠিকভাবে আবেদনটি করেছেন, প্রত্যেকটি Criteria তিনি fill করেছেন, এখানে যে Ingredient-গুলো আছে সেগুলো সবগুলো তিনি Satisfy করেছেন, তখন যদি আপনি প্রত্যাখ্যান করেন, নামঞ্জুর করেন, Reject করেন নিজেদের এই ব্যাখ্যা, অযথার্থ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে, এটি টিকবে না। কীভাবে? এখানে একটি আইনের নীতি এসে দাঁড়িয়ে যায়। সেটি হচ্ছে যে Principle of Natural Justice। এবং এই Principle of Natural Justice দেখার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশ Supreme Court-এর High Court বিভাগে। যখন আপনি Principle Justice violation করবেন, এই যে Due Process violation করবেন এবং Legitimate Expectancy-কে violation করবেন, তখন এই যে আবেদনকারী যিনি সুবিধাটি চাচ্ছেন, Exit সুবিধা চাচ্ছেন, তিনি মহামান্য High Court বিভাগে যদি Writ Petition দায়ের করে বলেন যে আমার সবই ঠিক ছিল, আবেদন ঠিক ছিল, Criteria fill করেছি, সব ঠিকঠাক করেছি, কিন্তু তারা এরকম একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে আমাকে Reject করেছে। তখন কিন্তু আপনার সেই ব্যাখ্যাটি টিকবে না। কারণ ওই যে বললাম যে Principle of Natural Justice এর ভিত্তিতে টিকবে না এবং Legitimate Expectancy যেটি আছে তার ভিত্তিতেও টিকবে না। তার চেয়ে বড় কথা হলো যে প্রত্যেকটা নাগরিকের যে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার আছে, এই যে Circular-টি এটি একটি আইন, অতএব এই আইন অনুযায়ী Treat হবার অধিকার তার আছে। অতএব অধিকারটি লঙ্ঘন হলে তখন মহামান্য High Court বিভাগ Interfere করতে পারেন, এই অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারেন। তাহলে এটি তো এখন বলা যাবে যে যদি কোনো নাগরিকের Natural Justice violation হয়, আইনের Due Process violation হয়, Legitimate Expectancy থাকে এবং সেটি যদি না পান, এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারটি যদি নষ্ট হয় অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে যদি সেটিকে Suppress করা হয়, তখন তার যে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, এই যে Point-গুলো আমি বললাম যেগুলো মহামান্য High Court বিভাগ দেখে থাকে, তখন তিনি Writ Petition দায়ের করলে তিনি এই মহামান্য High Court বিভাগ এই নাগরিকের অধিকার বাস্তবায়ন করে দিবেন, তার অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন, তার Writ Petition মঞ্জুর করবেন এবং Exit সুবিধা প্রদান করে দিতে পারেন, যদি মহামান্য High Court বিভাগ চান। সেই সাথে যেটি বলছি যে ব্যাংকার গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তির যে কথাটি Quote and unquote, এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তর কথা বলেছি যে এই ব্যাখ্যাটি কী হতে পারে, যথার্থ ব্যাখ্যা কী, আগের পর্বে আমরা বিস্তরভাবে বলেছি, সেখান থেকে দয়া করে একটু শুনে নিবেন যে ব্যাংক নিজের মত করে ব্যাখ্যা দিতে পারে কি পারে না। না, ব্যাংক নিজের মত করে ব্যাখ্যা দিতে পারে না, সম্পর্কের ভিত্তি যেনতেনভাবে দাঁড় করানো যাবে না। তাহলে এই যে ব্যাংকার গ্রাহকের সম্পর্কের যেই Clause-টি আছে, এর যে ব্যাখ্যা হবে সেই ব্যাখ্যাটি কে দিতে পারে? সেটি দিতে পারে মহামান্য High Court বিভাগ। মহামান্য High Court বিভাগেরই একমাত্র এখতিয়ার আছে এই শব্দটির ব্যাখ্যা করার। ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার অধিকার নাই, তিনি করতে পারেন তার মত করে, কিন্তু দিনশেষে যার ব্যাখ্যা টিকবে সেটি হচ্ছে মহামান্য High Court বিভাগের। কারণ সংবিধানের 152 Article অনুযায়ী এই যে Circular-টি এটি একটি আইন, এই আইনের ভেতরে যে ব্যাখ্যা আছে কিংবা আইনের ভেতরে যে শব্দগুচ্ছ আছে সেগুলোর ব্যাখ্যা দানকারী সত্তা হচ্ছে কিংবা চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কিংবা কর্তৃপক্ষ হচ্ছে।

বাংলাদেশ Supreme Court-এর High Court বিভাগ। যদি বাংলাদেশ Supreme Court-এর High Court বিভাগ এর আগেই ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যাখ্যা চলবে, যদি না দিয়ে থাকে তাহলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য—এই দেশগুলোর যে High Court বিভাগ কিংবা Supreme Court যদি কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে এই Term-টির, সেটি বলবৎ হবে। তাহলে যদি কোনো ব্যাংক এই Clause-টিকে ধরে নামঞ্জুর করে, তিনি যদি মহামান্য High Court বিভাগে এসে Writ Petition দায়ের করেন, Writ Petition দায়ের করে এসে যদি বলে যে ব্যাংক যে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেটি আদতে চলবে না, কার্যত এটি অচল, বরং মহামান্য High Court বিভাগের এই ব্যাখ্যা আছে কিংবা অন্য দেশের High Court বিভাগের এই ব্যাখ্যা আছে, তখন সেই ব্যাখ্যাটি আসলে টিকে যাবে। তাহলে আমি যে ব্যত্যয়টি দূর করতে চেয়েছিলাম, যেই ধোঁয়াশাটি দূর করতে চেয়েছিলাম, যেই অপব্যাখ্যাটি দূর করতে চেয়েছিলাম, যেই বিপত্তিটি দূর করতে চেয়েছিলাম, আশা করি সেই অপব্যাখ্যা, অযথার্থ ব্যাখ্যাগুলো দূর হবে এবং দয়া করে কেউ এ ধরনের ব্যাখ্যা দিবেন না যে ব্যাংকার এবং গ্রাহকের সম্পর্ক, অতএব এটার কোনো Scale নাই, এটা যেনতেনভাবে হতে পারে। না, এটা যেনতেনভাবে হতে পারে না, একটু আগেই আমি বলেছি বিস্তরভাবে। তাহলে আগামী পর্বগুলো দেখতে থাকুন এবং জানতে থাকুন আপনার অধিকার এবং প্রতিকারগুলো। আজকে যে অধিকার জানলেন তেমনিভাবে আরও অধিকার নিয়ে হাজির হব আপনাদের সামনে। আগামী পর্বে দেখা হচ্ছে আবারও। আজকে এই পর্যন্ত, আল্লাহ হাফেজ।

ব্যারিস্টার মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +8801771-5995577
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com