জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ নোটিশ/অভিযান/আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (পর্ব- ০৪)
সেকশন ৫ (Section 5): "Eviction of Unauthorised Occupant" এর নিবিড় বিশ্লেষণ:
অধ্যাদেশের Section 5(1) এ বিধৃত হয়েছে যে, জেলা প্রশাসক যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে (on his own motion), অথবা কারো অভিযোগের প্রেক্ষিতে (on the complaint of), অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোনো তথ্যের ভিত্তিতে (upon information received), তার নিজস্ব বিবেচনায় যথাযথ অনুসন্ধান (such inquiry as he thinks fit) করার পর সন্তুষ্ট হন যে কোনো ব্যক্তি একজন অবৈধ দখলদার, তবে তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি নোটিশ জারি করতে পারবেন। উক্ত নোটিশে সেই ব্যক্তিকে নোটিশ জারির তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে তার দখলে থাকা ভূমি, ভবন বা তার অংশবিশেষ খালি করার নির্দেশ প্রদান করা হবে ।
এই উপধারাটির অন্তর্নিহিত আইনি উপাদানসমূহ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। প্রথমত, উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সূচনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য বা অভিযোগ থাকতে হবে, অথবা তিনি নিজ উদ্যোগেও এটি শুরু করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, অভিযোগ প্রাপ্তির পরই তিনি যান্ত্রিকভাবে উচ্ছেদের নির্দেশ দিতে পারবেন না; তাকে অবশ্যই একটি অনুসন্ধান বা ইনকোয়ারি পরিচালনা করতে হবে। এই "Inquiry" শব্দটি প্রশাসনিক আইনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত করে যে জেলা প্রশাসককে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে বস্তুতপক্ষে একটি তথ্যানুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে বাধ্য। তৃতীয়ত, তাকে বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে "সন্তুষ্ট" (Satisfied) হতে হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই আইনের সংজ্ঞানুযায়ী একজন অবৈধ দখলদার। এবং চতুর্থ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো, দখলদারকে ভূমি বা স্থাপনা খালি করার জন্য ত্রিশ (৩০) দিনের একটি বিধিবদ্ধ নোটিশ (Mandatory Notice) প্রদান করা।
তবে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ৮৫নং আদেশের মাধ্যমে এই উপধারায় একটি শর্ত বা প্রোভিসো (Proviso) যুক্ত করা হয়। এই সংশোধনীতে বলা হয় যে, যদি জেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট হন যে ত্রিশ দিনের নোটিশ প্রদান করা জনস্বার্থের (Public Interest) অনুকূলে হবে না, তবে তিনি এই নোটিশের মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন, তবে তা কোনোভাবেই সাত (৭) দিনের কম হতে পারবে না । এই প্রোভিসোটি জেলা প্রশাসককে একটি বিশেষ বিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power) প্রদান করেছে, যা প্রায়শই যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। "জনস্বার্থ" নামক বিস্তৃত ও অস্পষ্ট ধারণার বশবর্তী হয়ে ত্রিশ দিনের নোটিশকে সাত দিনে নামিয়ে আনার ক্ষমতাটি প্রশাসনিক সুবিধাবাদের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ, যা নিয়ে উচ্চ আদালতে অজস্র রিট পিটিশন দায়ের হয়েছে।
অধ্যাদেশের Section 5(2) উচ্ছেদের কার্যকরী বা এক্সিকিউশন পর্যায়ের বিধান প্রদান করে। এতে বলা হয়েছে, উপধারা (১) এর অধীনে আদিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার দখলে থাকা ভূমি, ভবন বা তার অংশ খালি করতে অস্বীকার করে বা ব্যর্থ হয়, তবে সেই সময়ে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন (notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force), জেলা প্রশাসকের জন্য উক্ত ভূমি বা ভবনে প্রবেশ করা এবং দখলদারকে উচ্ছেদ করে খাস দখল (Khas Possession) পুনরুদ্ধার করা আইনসঙ্গত হবে। এই প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক প্রয়োজনে দখলদার কর্তৃক নির্মিত যে কোনো স্থাপনা বা কাঠামো ভেঙে ফেলার এবং অপসারণ করার (demolishing and removing structures) নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রাখেন ।
দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার রহিতকরণ ও রিট এখতিয়ারের অপরিহার্যতা:
যেকোনো সম্পত্তির স্বত্ব, দখল বা উচ্ছেদের বিষয়টি সাধারণত দেওয়ানি আদালতের (Civil Court) সাধারণ এখতিয়ারভুক্ত। কিন্তু ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির (Code of Civil Procedure, 1908) দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার মন্থর গতির কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে বিলম্ব ঘটে। এই বিলম্ব এড়ানোর জন্যই ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশে একটি ওউস্টার ক্লজ (Ouster Clause) বা এখতিয়ার রহিতকরণের ধারা যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশের Section 11 (Bar to jurisdiction of civil Court) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছে যে, কোনো দেওয়ানি আদালত এই অধ্যাদেশের অধীনে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ভূমি, ভবন বা তার অংশবিশেষের দখল নেওয়ার কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে কোনো অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা (Temporary or ad interim injunction) জারি করতে পারবে না, এবং এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্ধারিত কোনো ক্ষতিপূরণ মূল্যায়নের বিষয়েও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না ।
দেওয়ানি আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা প্রদানের এখতিয়ার রহিতকরণের ফলে, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হওয়া বা হয়রানির সম্মুখীন হওয়া নাগরিকদের প্রচলিত দেওয়ানি মামলায় (Civil Suit) দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার পথ সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ হয়ে যায় । একজন নাগরিক যখন উচ্ছেদের মুখে পড়েন, তখন তার জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো একটি তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ (Stay Order), যা Section 11 এর কারণে নিম্ন আদালত থেকে পাওয়া অসম্ভব।
কিন্তু, আইনশাস্ত্রের মৌলিক নীতি হলো, সংসদীয় আইন দ্বারা নিম্ন বা দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার খর্ব করা গেলেও, একটি লিখিত ও অনমনীয় সংবিধানের (Written and Rigid Constitution) অধীনে উচ্চ আদালতের জুডিশিয়াল রিভিউ (Judicial Review) বা বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা কোনো সাধারণ আইন দ্বারা রহিত করা সম্ভব নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার (Writ Jurisdiction) একটি মৌলিক সাংবিধানিক কাঠামো। তাই, যখনই জেলা প্রশাসক আইন বহির্ভূতভাবে (Ultra Vires), এখতিয়ারবিহীনভাবে (Without Jurisdiction), স্বেচ্ছাচারী উপায়ে (Arbitrarily), বা সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার ও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, তখন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিট অব সার্টিওরারি (Writ of Certiorari) এবং রিট অব ম্যান্ডামাস (Writ of Mandamus) দায়েরের মাধ্যমে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন । রিট পিটিশনই এক্ষেত্রে একমাত্র কার্যকর, দ্রুত এবং চূড়ান্ত আইনি বর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়।
জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়েরের সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডসমূহ:
একটি প্রশাসনিক উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে হলে সুনির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি, সাংবিধানিক লঙ্ঘন বা পদ্ধতিগত ত্রুটির (Procedural Impropriety) গ্রাউন্ড থাকতে হবে। শুধুমাত্র উচ্ছেদের কারণে কষ্ট হচ্ছে—এমন আবেগময় যুক্তিতে রিট মেইনটেইনেবল (Maintainable) হয় না। অধ্যাদেশের Section 5 এর আইনি বিধান, প্রশাসনিক আইনের সাধারণ নীতি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী আইনি নজিরসমূহ (Landmark Precedents) বিশ্লেষণ করলে উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে রিট দায়েরের নিম্নলিখিত শক্তিশালী গ্রাউন্ডসমূহ পরিলক্ষিত হয়:
গ্রাউন্ড-১; আইন নির্ধারিত বাধ্যতামূলক নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতা বা পদ্ধতিগত ত্রুটি (Violation of Statutory Notice Requirement):
Section 5(1) এর অধীনে উচ্ছেদের সর্বপ্রধান ও অলঙ্ঘনীয় পূর্বশর্ত হলো অবৈধ দখলদারকে বাধ্যতামূলকভাবে নোটিশ প্রদান করা। একটি বিধিবদ্ধ নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে পরিচালিত কোনো উচ্ছেদ অভিযান "Due Process of Law" বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আইনত অকার্যকর (Void ab initio)।
বাংলাদেশের উচ্চ আদালত একাধিক যুগান্তকারী রায়ে এটি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে, এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি অনধিকার প্রবেশকারী বা ট্রেসপাসার (Trespasser) হয়, তবুও তাকে আইনি নোটিশ প্রদান করতে হবে। আইন কাউকে তার সম্পত্তি বা দখল থেকে বলপূর্বক বের করে দেওয়ার আগে তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার এবং স্বেচ্ছায় তার জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার নূন্যতম সুযোগ প্রদান করাকে সভ্য সমাজের আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে বিবেচনা করে।
• Aleya Begum and others vs Bangladesh মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করে যে, "ন্যায়বিচার দাবি করে যে, এমনকি ট্রেসপাসারদেরকেও নোটিশ না দিয়ে এবং স্বেচ্ছায় তাদের নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না" । আদালত আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে, ১৯৭২ সালের পি.ও. ৮৫ দ্বারা সংশোধিত বিধানে ৭ দিনের নোটিশের যে শর্ত রাখা হয়েছে, সেটি আইনপ্রণেতাদের ইচ্ছানুযায়ী সম্পূর্ণভাবে বাধ্যতামূলক (Mandatory), এটি কোনোভাবেই কেবল নির্দেশনামূলক (Directory) নয় । অর্থাৎ, ৭ দিনের কম সময়ের নোটিশ দিলে সেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বেআইনি বলে গণ্য হবে।
• Rafiqul Alam vs Secretary, Ministry of Works মামলায় উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দেয় যে, যেহেতু সরকার আবেদনকারীর ভাইদের কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়েই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেছে এবং তাদের উচ্ছেদ করেছে, তাই এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি "Due course of law" বা আইনের যথাযথ গতি অনুসরণে হয়নি । ফলশ্রুতিতে এই ধরনের দখল গ্রহণকে আদালত অবৈধ ঘোষণা করে।
গ্রাউন্ড-২; স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির চরম লঙ্ঘন (Breach of Principles of Natural Justice - Audi Alteram Partem):
প্রশাসনিক আইনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো "Audi Alteram Partem" বা অপর পক্ষকে শোনার নীতি। কোনো ব্যক্তিকে তার অধিকার বা দখল থেকে বঞ্চিত করার আগে তাকে নিজের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। Section 5(1) এর আইনি ভাষায় বলা হয়েছে যে, জেলা প্রশাসককে "satisfied after making such inquiry as he thinks fit" হতে হবে। অর্থাৎ, কাউকে অবৈধ দখলদার হিসেবে সাব্যস্ত করার আগে জেলা প্রশাসককে একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যেকোনো অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ন্যূনতম দাবি হলো যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকে তার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের একটি সুযোগ দেওয়া। যদি জেলা প্রশাসক তার অফিসে বসে একতরফাভাবে (Ex parte) গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কাউকে অবৈধ দখলদার ঘোষণা করেন এবং সরাসরি উচ্ছেদের নোটিশ ইস্যু করেন, তবে তা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
• যদিও ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশে সরাসরি আনুষ্ঠানিক শুনানির (Formal Hearing) কথা উল্লেখ নেই, তবে উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে স্ট্যাটিউট নীরব থাকে, সেখানে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্নিহিত (Read into) বলে ধরে নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পূর্বে কারণ দর্শানোর সুযোগ (Opportunity to show cause) প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
• Modhumala vs Housing and Building Research Institute মামলায় উচ্চ আদালত রায় দেয় যে, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের পূর্বে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে নোটিশ প্রদান করা বা সার্ভ করা (Service of notice) অত্যাবশ্যক । কোনো রূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে, তাদের দাবি বা মালিকানার দলিলাদি প্রদর্শনের অবকাশ না দিয়ে একতরফাভাবে অবৈধ দখলদার ঘোষণা করা রিট এখতিয়ারে বাতিলযোগ্য।
গ্রাউন্ড-৩; স্বত্ব বা মালিকানা সম্পর্কিত প্রকৃত বিরোধের উপস্থিতি (Existence of Bona Fide Dispute of Title):
The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970 মূলত একটি সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ার (Summary Proceeding) আইন। এটি কেবল তখনই প্রয়োগ করা যেতে পারে যখন ভূমির মালিকানা নিয়ে কোনো দৃশ্যমান বা আইনি জটিলতা নেই, সম্পত্তিটি যে সরকারের খাস জমি তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং দখলদারের অবৈধতা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কিন্তু যেখানে ভূমির স্বত্ব বা মালিকানা নিয়ে প্রকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য বিরোধ (Bona fide title dispute) রয়েছে, সেখানে জেলা প্রশাসক এই অধ্যাদেশের আওতায় উচ্ছেদ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জেলা প্রশাসক দেওয়ানি আদালতের বিকল্প বা সমকক্ষ নন। জটিল স্বত্ব নির্ধারণ, দলিল জালের অভিযোগ, বা খতিয়ানের ভুলত্রুটি সংশোধনের মতো বিচারিক কাজ (Judicial function) করার এখতিয়ার তার নেই। যদি কোনো জমির মালিকানা দাবি করে দেওয়ানি আদালতে আগে থেকেই ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Suit for declaration of title), বাটোয়ারা মামলা, বা অন্য কোনো মামলা চলমান থাকে, তবে জেলা প্রশাসক সেই জমির দখলদারকে 'অবৈধ' ঘোষণা করে Section 5 এর অধীনে উচ্ছেদ করতে পারেন না ।
• Government of Bangladesh and others vs Mrs. Mohsina Rahman alias Joya মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই যুগান্তকারী নজিরে দেখা যায়, ভূমির স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে এবং সিএস (CS) বা আরএস (RS) খতিয়ানে মালিকানার জটিলতা থাকলে প্রশাসনিক আদেশে উচ্ছেদ করা বেআইনি। যেখানে রেকর্ডে ভুল বা ভিন্নতা রয়েছে, সেখানে তা দেওয়ানি আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণের বিষয়, জেলা প্রশাসকের একক সিদ্ধান্তে উচ্ছেদের বিষয় নয় ।
• Maleka Khatun vs Bangladesh মামলায় ধরনের মামলাগুলোতে হাইকোর্ট বিভাগ বারংবার নির্দেশ দিয়েছে যে, ভেস্টেড প্রপার্টি বা অর্পিত সম্পত্তির তকমা দিয়ে বা খাস জমি দাবি করে এমন কোনো ব্যক্তিকে উচ্ছেদ করা যাবে না যার কাছে দীর্ঘদিনের দখলের প্রমাণ এবং মালিকানার স্বপক্ষে প্রাথমিক দলিলাদি (Prima facie title documents) রয়েছে ।
গ্রাউন্ড-৪; সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন (Violation of Constitutional Rights - Right to Life, Livelihood and Shelter):
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার), এবং ৩২ অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ) নাগরিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ । রিট পিটিশনের অন্যতম শক্তিশালী ও বিস্তৃত ভিত্তি হলো এই মৌলিক অধিকারগুলোর লঙ্ঘন।
বিশেষ করে, বস্তিবাসী বা ছিন্নমূল মানুষদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের পদাঙ্ক অনুসরণ করে "Right to Life" (জীবনের অধিকার)-এর একটি যুগান্তকারী, প্রগতিশীল ও প্রসারিত ব্যাখ্যা (Expansive Interpretation) প্রদান করেছে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, জীবনের অধিকার কেবল প্রাণী হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার নয়, বরং এর মধ্যে "জীবিকা ও বাসস্থানের অধিকার" (Right to Livelihood and Shelter) অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ।
• Ain o Salish Kendra (ASK) vs Government of Bangladesh; মানবাধিকার সংস্থা আসক (ASK) কর্তৃক দায়ের করা এই ঐতিহাসিক জনস্বার্থ মামলায় (Public Interest Litigation - PIL) হাইকোর্ট ঘোষণা করে যে, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাসস্থানের অধিকার একটি মূলনীতি হলেও, জীবনের অধিকারের সাথে এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। কোনো উপযুক্ত পুনর্বাসন বা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে বস্তিবাসীদের ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা যাবে না। আদালত রায় দেয় যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার জীবনের অধিকার (যার অন্তর্ভুক্ত বাসস্থান ও জীবিকা) থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানের পরিপন্থি ।
• Kalam and Others vs Bangladesh: এই রায়ে আদালত অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উল্লেখ করে, "বস্তিবাসীরাও এদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের মৌলিক অধিকারগুলো হয়তো পুরোপুরি সম্মানিত হচ্ছে না, তবে তাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করা যাবে না। তাদের সম্মান ও ন্যায্যতার সাথে বাঁচার অধিকার রয়েছে।" রাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে ।
• BLAST vs Government of Bangladesh: ব্লাস্ট কর্তৃক দায়ের করা এই মামলায় হাইকোর্ট বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট মাস্টার প্ল্যান বা পাইলট প্রজেক্ট গ্রহণের নির্দেশ দেয় এবং সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বস্তি উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রদান করে।
গ্রাউন্ড-৫; জনস্বার্থের অজুহাতে ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of 'Public Interest' Clause and Arbitrary Action):
Section 5(1)-এর Proviso অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক যদি মনে করেন ৩০ দিনের নোটিশ "জনস্বার্থের" পরিপন্থি হবে, তবে তিনি তা কমিয়ে ন্যূনতম ৭ দিনে নামিয়ে আনতে পারেন । আইনপ্রণেতারা এই ক্ষমতাটি দিয়েছিলেন কেবল জরুরি ও বিশেষ পরিস্থিতির জন্য, যেখানে রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন রয়েছে।
কিন্তু প্রশাসনিক চর্চায় দেখা যায়, রিট পিটিশনে প্রায়শই এই গ্রাউন্ডটি চ্যালেঞ্জ করা হয় যে, জেলা প্রশাসক যথেচ্ছভাবে (Arbitrarily) এবং কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই "জনস্বার্থ" শব্দটির অপব্যবহার করেছেন। কেন ৩০ দিনের নোটিশ জনস্বার্থের বিরোধী হতো, তার কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা যৌক্তিক কারণ (Reasoned Order/Speaking Order) ফাইলে লিপিবদ্ধ না করেই ৭ দিনের নোটিশ জারি করা আইনের চেতনার সুস্পষ্ট পরিপন্থি। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে রিট আদালতের সামনে এফিডেভিট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে কী এমন অতি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যার কারণে দখলদারকে স্বাভাবিক আত্মপক্ষ সমর্থনের ও সরে যাওয়ার সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে ৭ দিনের নোটিশটি "Colourable exercise of power" বা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে এবং হাইকোর্ট তা এখতিয়ার-বহির্ভূত হিসেবে বাতিল করতে পারে।
গ্রাউন্ড-৬; এখতিয়ারগত পূর্বশর্তের অভাব ও ভুল প্রয়োগ (Absence of Jurisdictional Facts and Misclassification):
The Ordinance 1970 শুধুমাত্র "Government" এবং "Local Authority" এর জমি ও ভবনের জন্য প্রযোজ্য । এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির জন্য নয়।
যদি উচ্ছেদকৃত জমিটি কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন, ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Property), বা এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের হয় যা অধ্যাদেশের ২ ধারায় বর্ণিত "Local Authority" এর আইনি সংজ্ঞায় পড়ে না, তবে জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ অভিযান শুরু থেকেই বাতিল (Void ab initio)।
• উদাহরণস্বরূপ, Syed Mozammel Huq vs Bangladesh মামলায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, সরকারি জমি বা ভবন যদি কোনো স্বায়ত্তশাসিত (Autonomous) প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে বা সাধারণ ব্যক্তিকে লিজ দেওয়া হয়, তবে তাকে উচ্ছেদ করার জন্য অধ্যাদেশের Section 3 অনুযায়ী লিজ চুক্তির শর্তভঙ্গের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। ঢালাওভাবে Section 5 এর অধীনে তাকে অবৈধ দখলদার সাজিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না ।
• অনুরূপভাবে, চট্টগ্রাম বন্দরের Laldiar Char (ললদিয়ার চর) এর ঘটনায় জমির মূল মালিকানা, অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ছিল, যা হাইকোর্টের রিটের বিষয়বস্তু হয়েছিল। সরকারি জমি দাবি করে এমন কোনো জমিতে উচ্ছেদ চালানো যায় না যেখানে সরকার নিজেই একসময় তাদের পুনর্বাসিত করেছিল ।
রিট পিটিশনের পদ্ধতিগত দিক এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার:
একটি সফল রিট পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ এবং আইনি কৌশল অবলম্বন করা অপরিহার্য। শুধুমাত্র গ্রাউন্ড থাকলেই হয় না, পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক রিট খারিজ (Summarily rejected) হয়ে যেতে পারে।
প্রথমত, রিট দায়েরের পূর্বে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিকার চাইতে হয়, যা 'ডিমান্ড ফর জাস্টিস নোটিশ' (Demand for Justice Notice) নামে পরিচিত। এই নোটিশে উল্লেখ করতে হয় যে প্রশাসনের পদক্ষেপটি কেন বেআইনি এবং তা প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। জেলা প্রশাসক যদি এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দেন বা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, তবে ধরে নেওয়া হয় যে প্রশাসনিক প্রতিকারের আর কোনো পথ খোলা নেই, যা রিট দায়েরের যৌক্তিকতা ও মেইনটেইনেবিলিটি (Maintainability) প্রতিষ্ঠিত করে।
দ্বিতীয়ত, উচ্ছেদ বিষয়ক রিটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Interim Stay/Injunction) বা স্থিতাবস্থা (Status Quo) চাওয়া। যেহেতু উচ্ছেদ অভিযান একবার সম্পন্ন হয়ে গেলে পরবর্তীতে রিট মামলায় রায় পেলেও হারানো দখল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে মূল স্থাপনা বা কাঠামো ভেঙে ফেলায় অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable Loss) সাধিত হয়, তাই আদালতকে কনভিন্স করতে হয় যেন মূল মামলার নিষ্পত্তির পূর্বেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করা হয়। আদালত প্রাথমিক শুনানিতে (Motion Hearing) পিটিশনারের নথিপত্র দেখে প্রাইমা ফেসি (Prima facie) সন্তুষ্ট হলে বিবাদীদের প্রতি রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করার পাশাপাশি উচ্ছেদ কার্যক্রমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেন ।
তৃতীয়ত, রিট পিটিশনে অবশ্যই আবেদনকারীর দখলে থাকার আইনি বৈধতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি বা অ্যানেক্সার (Annexures) সংযুক্ত করতে হয়। যদিও রিট আদালত সাক্ষ্য গ্রহণ করে না, তবে এফিডেভিট আকারে দাখিল করা দলিলাদি—যেমন বৈধ লিজ দলিল, কর প্রদানের রসিদ, নামজারি, ট্রেড লাইসেন্স, ইউটিলিটি বিল, কিংবা জমি নিয়ে পূর্বে কোনো দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি বা আরএস খতিয়ান থাকলে তা সংযুক্ত করতে হয় । এগুলো প্রমাণ করে যে আবেদনকারী নিছক কোনো "অবৈধ দখলদার" নন, বরং তার দখলের একটি আইনি ভিত্তি (Colour of Title) রয়েছে এবং তার সাথে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
উপসংহার:
Section 5 এর অধীনে জেলা প্রশাসকদের যে প্রভূত এবং তাৎক্ষণিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো পেশাদার ভূমিগ্রাসীদের হাত থেকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার করা, যাতে দীর্ঘস্থায়ী দেওয়ানি মোকদ্দমার কারণে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হয়। তবে, আইনের এই উদ্দেশ্যের আড়ালে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ কখনোই আইনি প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার এবং মানবাধিকারের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না।
জেলা প্রশাসকের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একাধিক মজবুত ও সুপ্রতিষ্ঠিত আইনগত গ্রাউন্ড রয়েছে। এর মধ্যে Section 5-এ উল্লেখিত বাধ্যতামূলক বিধিবদ্ধ নোটিশ (৩০ দিন বা বিশেষ ক্ষেত্রে ৭ দিন) প্রদানে ব্যর্থতা, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির চরম লঙ্ঘন, সম্পত্তির স্বত্ব বা মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি আদালতের বিচার্য প্রকৃত বিরোধ থাকা, এবং বিশেষত বস্তিবাসীদের ক্ষেত্রে কোনো রূপ বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী কাজ করা উল্লেখযোগ্য ।
সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রশাসনের অতি-উৎসাহী বা আইনি প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হঠকারী পদক্ষেপগুলো কীভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপে প্রতিহত করা সম্ভব । পরিশেষে বলা যায়, সংক্ষুব্ধ নাগরিকদের জন্য দেওয়ানি আদালতের দরজা Section 11 এর মাধ্যমে বন্ধ থাকলেও, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে এক অমোঘ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এটি একই সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি সুক্ষ্ম, মানবিক ও আইনগত ভারসাম্য বজায় রাখে।
মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +৮৮০১৭১১ ৯৯ ৩৬ ৩৯
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com