জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ নোটিশ/অভিযান/আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (পর্ব- ০১)
বাংলাদেশে সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি, ইমারত বা স্থাপনা থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের (Deputy Commissioner) প্রধান আইনি হাতিয়ার হলো The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970। এই আইনের ৫ ধারা জেলা প্রশাসককে উচ্ছেদের ক্ষমতা প্রদান করেছে। তবে, এই ক্ষমতা নিরঙ্কুশ বা যথেচ্ছভাবে প্রয়োগের সুযোগ নেই।
জেলা প্রশাসক যদি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা 'Due Process of Law' অনুসরণ না করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করে প্রতিকার চাইতে পারেন।
নিচে ৫ ধারার পর্যালোচনাসহ যে সকল সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড বা আইনি ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা যায়, তা আলোচনা করা হলো:
১. ধারা ৫ (Section 5) এর আইনি বিশ্লেষণ:
১৯৭০ সালের অধ্যাদেশের ৫ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Rules, 1970 পর্যালোচনা করলে দেখা যায় উচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি তিনটি আবশ্যিক ধাপে বিভক্ত:
ক. তদন্ত ও সন্তুষ্টি (Inquiry & Satisfaction): ৫(১) ধারা অনুযায়ী, উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়ার আগে ডিসিকে অবশ্যই "তদন্ত" করতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে যে দখলদারটি প্রকৃতপক্ষে "Unauthorised" (অননুমোদিত)। ১৯৭০ সালের রুলস-এর ৩ বিধি অনুযায়ী, এই তদন্তের সময় দখলদারকে তার কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ দেওয়া উচিত।
খ. নোটিশ প্রদান (Notice): সন্তুষ্ট হলে ডিসি নির্ধারিত ফরমে (Form A) ৩০ দিনের নোটিশ দেবেন। তবে জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে ডিসি এই সময় কমিয়ে ন্যূনতম ৭ দিন করতে পারেন।
আইনি শর্ত: নোটিশটি অবশ্যই দখলদারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে বা তার বাসার কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যের কাছে জারি করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে জমির দৃশ্যমান স্থানে নোটিশটি লটকে দিতে হবে।
গ. বলপ্রয়োগ ও দখল পুনরুদ্ধার: ৫(২) ধারা অনুযায়ী নোটিশের সময় পার হওয়ার পর ডিসি স্থাপনা অপসারণ ও খাস দখল নিতে পারেন। এই উপধারার ক্ষমতা প্রয়োগের আগে ৫(১) ধারার যথাযথ অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
Unauthorized occupant কাকে বলে:
৫ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এর ব্যবহৃত প্রধান সংজ্ঞাসমূহ অনুধাবন করা অপরিহার্য। অধ্যাদেশের ২ ধারায় ব্যবহৃত শব্দগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে । ৫ ধারার মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে "অননুমোদিত দখলদার" শব্দগুচ্ছের ওপর । আইনের ২(f) ধারা অনুযায়ী, অননুমোদিত দখলদার বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি সরকার বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অনুমতি বা কর্তৃত্ব ব্যতীত এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে কোনো আইনি দলিল সম্পাদন ছাড়াই কোনো জমি বা ইমারত দখলে রেখেছেন । এর মধ্যে লিজগ্রহীতা কর্তৃক অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি কিংবা লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দখলে থাকা ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত ।
“2(f) “unauthorised occupant” means a person who is in occupation of any land or building or part thereof without having obtained the express permission or authority of the Government or the Local Authority concerned, as the case may be, and without executing, where necessary, a legal document, and includes-
(i) a person unlawfully inducted into any land or building or part thereof by the lessee; and
(ii) a lessee who continues in possession of the land or building or part thereof after expiry of term or determination of lease;”
রিট পিটিশন দায়েরের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি বা গ্রাউন্ডসমূহ:
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করার মাধ্যমে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের যেকোনো এখতিয়ারবহির্ভূত, বেআইনি বা স্বেচ্ছাচারী কাজকে চ্যালেঞ্জ করা যায়। যদিও ১৯৭০ সালের এই অধ্যাদেশের ১১ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার বর্জিত করার কথা বলা হয়েছে, তবে সংবিধান প্রদত্ত রিট এখতিয়ার কোনো সাধারণ আইন দ্বারা খর্ব করা সম্ভব নয় । জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ অভিযানকে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করতে হলে আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি ভিত্তি বা গ্রাউন্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই গ্রাউন্ডগুলো মূলত পদ্ধতিগত ত্রুটি, Principles of Natural Justice নীতি লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
বাস্তব উদাহরণ (Practical Scenario):
ঘটনা: মি. 'ক' একটি সরকারি খাস জমি ৩০ বছরের জন্য ডিসি অফিস থেকে লিজ নিয়ে একটি মার্কেট তৈরি করেছেন। লিজের মেয়াদ এখনো ৫ বছর বাকি আছে। হঠাৎ করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নোটিশ ছাড়াই মার্কেটটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো।
আইনি পদক্ষেপ: এখানে মি. 'ক' হাইকোর্টে রিট করতে পারেন এই মর্মে যে:
১. তাকে ধারা ৫(১) অনুযায়ী ৩০ দিনের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
২. তার লিজের মেয়াদ এখনো বলবৎ আছে, তাই তিনি "Unauthorised Occupant" নন।
৩. এই উচ্ছেদ অভিযান সংবিধানের মৌলিক অধিকার (ধারা ৩১ ও ৪২ - জীবনের অধিকার ও সম্পত্তির অধিকার) পরিপন্থী।
নিম্নে রিট পিটিশন দায়েরের উল্লেখযোগ্য গ্রাউন্ডসমূহ (Grounds for Writ) বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
প্রথম গ্রাউন্ড- নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতা বা ত্রুটিপূর্ণ নোটিশ:
৫(১) ধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রদান একটি সংবিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা এবং এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় । যদি জেলা প্রশাসক কোনো নোটিশ প্রদান ছাড়াই সরাসরি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, অথবা নোটিশের মেয়াদ আইন নির্ধারিত ৭ দিনের নিচে নির্ধারণ করেন, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এখতিয়ারবহির্ভূত হবে । অধ্যাদেশের ৫(১) ধারায় স্পষ্টভাবে ৩০ দিনের নোটিশের কথা বলা হয়েছে এবং জনস্বার্থে বিশেষ প্রয়োজনে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ৭ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে । যদি জেলা প্রশাসক ৭ দিনের কম সময় দিয়ে নোটিশ জারি করেন, তবে তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদি কোনো জেলা প্রশাসক একটি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং সকালে মাইকিং করে বিকেলেই বুলডোজার নিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেন। এখানে সংবিধিবদ্ধ ৭ বা ৩০ দিনের নোটিশের সময়সীমা না মানার কারণে এই অভিযানটি সরাসরি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য এবং আদালত উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করতে পারেন।
দ্বিতীয় গ্রাউন্ড- যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়া উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ:
৫(১) ধারার শুরুতেই বলা হয়েছে যে, জেলা প্রশাসক স্বীয় উদ্যোগে বা কোনো তথ্যের ভিত্তিতে "উপযুক্ত মনে করেন এমন অনুসন্ধান করার পর" এবং তিনি সন্তুষ্ট হলে তবেই নোটিশ জারি করবেন । এই 'অনুসন্ধান' কেবল একটি নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি আবশ্যিক শর্ত। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য হলো দখলদার ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে অননুমোদিত কি না তা বস্তুনিষ্ঠভাবে নিশ্চিত করা । যদি জেলা প্রশাসক কোনো প্রকার বাস্তব বা বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান ছাড়াই, শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ বা কোনো মহলের প্ররোচনায় উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেন, তবে তা ক্ষমতার অপব্যবহার বা 'কালারেবল এক্সারসাইজ অব পাওয়ার' হিসেবে গণ্য হবে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জেলা প্রশাসক যদি সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড, দখল ও বৈধতা বিষয়ে কোনো প্রাথমিক তদন্ত বা সরেজমিনে তদন্ত না করেই নোটিশ জারি করেন, তবে রিট আবেদনে "অনুসন্ধানের অভাব" একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রাউন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তৃতীয় গ্রাউন্ড- Principles of Natural Justice এই মূলনীতির লঙ্ঘন:
৫(১) ধারার অধীন নোটিশ পাওয়ার পর দখলদার ব্যক্তি যদি জেলা প্রশাসকের কাছে কারণ দর্শানোর সুযোগ না পান বা জেলা প্রশাসক যদি তার দাখিলকৃত জবাব আমলে না নিয়ে সরাসরি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা Principles of Natural Justice এর চরম লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে । রিট পিটিশনে এটি একটি অতি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর আইনি ভিত্তি।
চতুর্থ গ্রাউন্ড- স্বত্ব বা মালিকানা সংক্রান্ত বাস্তব বিরোধ:
যেখানে দখলদার এবং সরকারের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকানা বা স্বত্ব নিয়ে গভীর এবং জটিল আইনি বিরোধ বিদ্যমান, সেখানে এই সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদি কোনো নাগরিকের কাছে জমির বৈধ দলিল যেমন সাব-কবলা, হেবা বা লিজ দলিল থাকে এবং তিনি নিয়মিত কর প্রদান করে আসছেন, অথচ সরকার উক্ত জমিকে হঠাৎ করে খাস দাবি করে উচ্ছেদ করতে চায়, তবে সেটি একটি স্বত্ব বা মালিকানার বিরোধ । উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত হলো, যেখানে স্বত্বের জটিল প্রশ্ন জড়িত, সেখানে সংক্ষিপ্ত উচ্ছেদ আইনের প্রয়োগ করা যাবে না। সরকারকে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণ দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হবে।
বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন। হঠাৎ একদিন জেলা প্রশাসক উক্ত জমিকে পাকিস্তান আমলের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা শত্রু সম্পত্তি দাবি করে ৫ ধারায় নোটিশ দিলেন । আবেদনকারী যদি উপযুক্ত দলিলাদি প্রদর্শন করে প্রমাণ করতে পারেন যে তার মালিকানা বৈধ এবং এটি কখনোই পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করবেন।
বাস্তব উদাহরণ: ধরুন, রহিম সাহেবের কাছে একটি জমির সাব-কবলা দলিল ও আর.এস (RS) খতিয়ান রয়েছে এবং তিনি ২০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকের দপ্তরের কোনো এক পুরনো রেকর্ডে জমিটি খাস হিসেবে তালিকাভুক্ত। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ৫ ধারায় নোটিশ দিলে রহিম সাহেব রিট করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো— মালিকানার জটিল প্রশ্ন (Complicated question of title) জড়িত থাকলে সরকার ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশের অধীনে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে উচ্ছেদ করতে পারে না; সরকারকে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে (Civil Court) মামলা করে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে।
পঞ্চম গ্রাউন্ড- আবেদনকারী আইনের সংজ্ঞার অধীনে "অননুমোদিত দখলদার" নন:
৫ ধারার প্রয়োগ কেবলমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই হতে পারে যারা আইনের ২(f) ধারা অনুযায়ী "অননুমোদিত দখলদার" এর সংজ্ঞায় পড়েন । রিট পিটিশনে আবেদনকারী সফলভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনোভাবেই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নন। অধ্যাদেশের ২(f) ধারা অনুযায়ী অননুমোদিত দখলদার হতে হলে কোনো জমি বা ইমারত সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ব্যতীত দখলে থাকতে হবে। যদি আবেদনকারীর কাছে সরকারের কোনো বৈধ বরাদ্দপত্র বা একটি লিজের চুক্তি থাকে যা এখনও আইনগতভাবে সমাপ্ত হয়নি, তবে তিনি আইনত অননুমোদিত দখলদার নন।
ষষ্ঠ গ্রাউন্ড- এখতিয়ারবহির্ভূত ক্ষমতা প্রয়োগ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উচ্ছেদ (Mala Fide Intent):
অধ্যাদেশের ২(b) ধারা অনুযায়ী কেবল জেলা প্রশাসক বা তদস্থলে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গই এই আইনের অধীনে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারেন । কিন্তু যদি এমন কোনো কর্মকর্তা এই নোটিশ বা উচ্ছেদ আদেশ প্রদান করেন যার অধ্যাদেশের অধীনে কোনো এখতিয়ার নেই, তবে পুরো প্রক্রিয়াটিই বাতিল বা বেআইনি হয়ে যাবে। অন্যদিকে, যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অন্যায় সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়, তবে তা ' Mala Fide Intent ' বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
উপসংহার:
জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ করার ক্ষমতা থাকলেও তাকে অবশ্যই "Due Process of Law" বা আইনের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ১৯৭০ সালের অধ্যাদেশটি কোনো ব্যক্তিকে গৃহহীন করার লাইসেন্স নয়, বরং এটি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের একটি আইনি পথ মাত্র। যদি এই আইনের ৫ ধারার শর্তাবলি যথাযথভাবে পূরণ না হয়, তবে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশনের মাধ্যমে উক্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত (Stay Order) বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন।
মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +৮৮০১৭১১ ৯৯ ৩৬ ৩৯
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com