অর্থজারী মামলা সংক্রান্তে হাইকোর্টে রীট (পর্ব- ০৯): ৩৪ ধারার গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ
অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারায় বিধান করা হয়েছে যে, ডিক্রিকৃত পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হলে ডিক্রীদার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দায়িক বা ঋণগ্রহীতাকে অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ (Warrant of Arrest বা WA) দিতে পারেন। তবে ৩৪ ধারার ১৩টি উপ-ধারায় বেশ কিছু আইনি সুরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা দেওয়া হয়েছে। জারী আদালত যদি এই উপ-ধারাগুলোর কোনো একটি লঙ্ঘন করে পরোয়ানা জারি করেন, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে উক্ত আদেশ বাতিল বা স্থগিত করতে পারেন।
নিচে ৩৪ ধারার ১ থেকে ১৩ উপ-ধারার আলোকে রিট চ্যালেঞ্জের প্রধান গ্রাউন্ডসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
নিচে ৩৪ ধারার গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করার প্রধান গ্রাউন্ডসমূহ আলোচনা করা হলো:
৩৩ ধারার ধাপসমূহ অতিক্রম না করা (Failure to Exhaust Section 33):
অর্থ ঋণ আইনের মূল চেতনা হলো আগে জামানত বা সম্পত্তি থেকে টাকা ঋণের টাকা আদায় করা। সম্পত্তি থেকে টাকা আদায় সম্ভবপর না হলে পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA বা দেওয়ানী আটকাদেশের মাধ্যমে ব্যক্তিকে আটক করা যেতে পারে। উচ্চ আদালতের মতে, ব্যক্তিকে আটক করা শেষ ধাপ হওয়া উচিত, প্রথম ধাপ নয়। যদি ডিক্রিদার ব্যাংক বিবাদীর বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে (Section 33) বিক্রির কার্যকর চেষ্টা না করেই সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করে এবং অর্থঋণ আদালত যদি WA আদেশ দেশ, তবে তা রিট পিটিশনের মাধ্যমে মহামান্য হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য। সেই WA কে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে এবং সেমতে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
বিচারিক নজির: একেএম ফজলুল হক মামলায় উচ্চ আদালত বলেন যে, যদি ডিক্রিদার ব্যাংক ৩৩ ধারার অধীনে সম্পত্তি নিলামের পর্যাপ্ত চেষ্টা না করে, তবে ৩৪ ধারার আবেদনটি অকালপক্ব (Premature) হিসেবে গণ্য হবে।
সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতারি পরোয়ানা:
দায়িকের সম্পত্তি বন্ধক বা জামানত থাকা সত্ত্বেও উক্ত সম্পত্তি থেকে ঋণের টাকা আদায় না করেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA বা দেওয়ানী আটকাদেশ প্রদান করা অর্থঋণ আদালত আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।
উদাহরণ:
জনাব সুমনের ৫ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে ১০ কোটি টাকার জমি বন্ধক আছে। ব্যাংক ওই জমি নিলামে না তুলে সরাসরি জনাব সুমনের বিরুদ্ধে ৩৪(১) ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করাল। এক্ষেত্রে জনাব সুমন হাইকোর্টে রিট করতে পারেন এই গ্রাউন্ডে যে—বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে পাওনা আদায়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। জনাব সুমন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে প্রতিকার পেতে পারেন।
ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে ছাড়- ধারা ৩৪(২) ও ৩৪(৪) লঙ্ঘন:
৩৪(২) অনুযায়ী মূল ঋণগ্রহীতার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে না। একইভাবে ৩৪(৪) অনুযায়ী কোম্পানির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে আসা ব্যক্তিদের আটক করা যাবে না বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করা যাবে না বা WA আদেশ প্রদান যাবে না । যদি জারী আদালত নিজ উদ্যোগে বা ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়, তবে তা হবে সরাসরি বেআইনি। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA কে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে এবং সেমতে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
গ্রাউন্ড: যদি জারী আদালত ভুলে বা ব্যাংকের অতি-উৎসাহী আবেদনের প্রেক্ষিতে মৃত ব্যক্তির ছেলে, স্ত্রী বা উত্তরাধিকারীকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূত এবং রিট করার সাথে সাথেই তা বাতিলযোগ্য।
উদাহরণ (উত্তরাধিকারীকে গ্রেফতার): জনাব করিম ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর ব্যাংক তার বড় ছেলে জনাব রহিমকে জারি মামলায় বিবাদী করে। আদালত জনাব রহিমের বিরুদ্ধে ৩৪(১) ধারায় পরোয়ানা দিল। এটি ৩৪(২) ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। জনাব রহিম মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে বাতিল করতে পারবেন।
কোম্পানির ক্ষেত্রে 'স্বাভাবিক ব্যক্তি' সনাক্তকরণ- ধারা ৩৪(৩) লঙ্ঘন:
কোম্পানির ক্ষেত্রে কেবল সেই 'স্বাভাবিক ব্যক্তি' (Natural Person) দায়ী হবেন যিনি কোম্পানির নীতি নির্ধারণ বা ঋণ গ্রহণের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। যদি কোম্পানির কেবল একজন সাধারণ শেয়ারহোল্ডার বা নামমাত্র পরিচালককে গ্রেফতার করা হয় যিনি ঋণের সাথে যুক্ত ছিলেন না, তবে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়। সেই গ্রেফতারকে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে।
২৫% পরিশোধে মুক্তির অধিকার- ধারা ৩৪(৬) ও ৩৪(৭) লঙ্ঘন:
৩৪(৬) অনুযায়ী, জেলে থাকা অবস্থায় দায়িক যদি পাওনার ২৫% নগদ জমা দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে বাকি টাকা দেওয়ার বন্ড দেন, তবে আদালত তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য। যদি দায়িক ২৫% টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও আদালত বা ব্যাংক তাকে মুক্তি না দেয়, তবে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে মুক্তি পাওয়া যাবে।
নিলামের আগে গ্রেফতারের সীমাবদ্ধতা- ধারা ৩৪(৯) ও ৩৪(১০) লঙ্ঘন:
৩৪(৯) অনুযায়ী, অন্তত একটি নিলাম বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করে কাউকে কারাগারে আটক করার আদেশ প্রদান করা যাবে না। যদি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলার কোনো কার্যকর চেষ্টা না করেই সরাসরি গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করে, তবে তা অকালপক্ব (Premature) হিসেবে চ্যালেঞ্জ করা যায়। তবে ৩৪(১০) অনুযায়ী যদি নিলাম করা অসম্ভব হয় (যেমন- কোনো সম্পত্তি নেই), তবেই সরাসরি গ্রেফতার করা যায়। ব্যাংক যদি মিথ্যে বলে যে সম্পত্তি নেই, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার আরও একটি বড় গ্রাউন্ড।
উদাহরণ ১ (নিলাম না করেই গ্রেফতার - ৩৪(৯) লঙ্ঘন):
জনাব সুমনের ৫ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে ১০ কোটি টাকার একটি জমি বন্ধক আছে। ব্যাংক জমিটি নিলামে (৩৩ ধারায়) বিক্রি করার কোনো চেষ্টা না করেই সরাসরি জারী মামলায় জনাব সুমনের বিরুদ্ধে ৩৪(১) ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করাল।
প্রতিকার: জনাব সুমন হাইকোর্টে রিট করে ৩৪(৯) ধারার বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে এই WA স্থগিত করতে পারেন, কারণ সম্পত্তি থাকতে আগে ব্যক্তিকে আটক করা বেআইনি।
নাবালকদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা- ধারা ৩৪(১১) লঙ্ঘন:
১৮ বছরের কম বয়স্ক কোনো ব্যক্তিকে এই আইনে গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না। যদি ভুলবশত কোনো নাবালককে (যিনি হয়তো উত্তরাধিকার সূত্রে পক্ষভুক্ত হয়েছেন) গ্রেফতার করা হয়, তবে তা সরাসরি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জযোগ্য। সেই নাবালক মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে বাতিল করতে পারবেন।
দ্বৈত আটকাদেশের নিষেধাজ্ঞা (Double Jeopardy)- ধারা ৩৪(১২) লঙ্ঘন:
৩৪(১২) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জারি মামলার সংখ্যা একাধিক হলেও, কোনো দায়িককে পরিপূর্ণ মেয়াদের জন্য (৬ মাস) একবার দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে, তাকে পুনর্বার গ্রেফতার বা আটক করা যাবে না। যদি ব্যাংক একটি জারি মামলায় বিবাদীকে জেল খাটানোর পর পুনরায় অন্য একটি জারি মামলায় একই ডিক্রির দায়ে গ্রেফতার করতে চায়, তবে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন এবং রিটে তা চ্যালেঞ্জযোগ্য। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA কে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে এবং সেমতে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
দ্বৈত আটকাদেশের নিষেধাজ্ঞা (Double Jeopardy)- ধারা ৩৪(১২) ও ৩৪(১৩) লঙ্ঘন:
৩৪(১২) ধারায় বলা হয়েছে, জারী মামলার সংখ্যা একাধিক হলেও, কোনো একজন দায়িককে পরিপূর্ণ মেয়াদের জন্য (৬ মাস) একবার দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হলে, তাকে পুনর্বার গ্রেফতার বা আটক করা যাবে না। ব্যাংক যদি এক মামলায় বিবাদীকে ৬ মাস জেল খাটানোর পর, একই ঋণ বা অন্য জারী মামলায় তাকে দ্বিতীয়বার গ্রেফতার করতে চায়, তবে তা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং রিটে তা স্থগিতযোগ্য। উল্লেখ্য, ৩৪(১৩) অনুযায়ী জেল খাটলে দেনা মাফ হয় না, তবে পুনরায় জেলও দেওয়া যায় না। দ্বিতীয়বার গ্রেফতারের আদেশ দিলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন এবং রিটে তা চ্যালেঞ্জযোগ্য। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA কে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে এবং সেমতে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
উদাহরণ (একই ডিক্রিতে দ্বিতীয়বার গ্রেফতার):
জনাব 'এক্স' একটি জারি মামলায় ৫ মাস জেল খেটে বের হয়েছেন। ব্যাংক পুনরায় একই পাওনার জন্য তাকে অন্য একটি জারী মামলায় গ্রেফতার করাল। এটি ৩৪(১২) ধারার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে রিট পিটিশনই একমাত্র সমাধান। সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা বা WA কে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে এবং সেমতে প্রতিকার পাওয়া যাবে।
নতুন জারী মামলা দায়ের না করা:
যদি একটি জারী মামলা 'ডিসমিস' বা নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পর ব্যাংক নতুন কোনো জারী মামলা (Fresh Execution Case) দায়ের না করে সরাসরি পূর্বের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা চায়, তবে তা পদ্ধতিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।
মানবিক গ্রাউন্ড- অসুস্থতা, বার্ধক্য বা সামর্থ্যহীনতা:
যদি দায়িক ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি ব্যবসায়িক মন্দা বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে টাকা দিতে পারছেন না, তবে তাকে জেল খাটানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। দায়িক ব্যক্তি যদি অতি বৃদ্ধ হন (যেমন- ৭০ বা ৮০ বছর বয়স) অথবা এমন কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হন যার চিকিৎসা কারাগারে সম্ভব নয়, তবে ৩৪ ধারার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মানবিক কারণে স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়।
উদাহরণ:
একজন নারী উদ্যোক্তা ঋণের ৩০% পরিশোধ করেছেন এবং বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। ব্যাংক তার বিরুদ্ধে WA ইস্যু করাল। হাইকোর্ট এক্ষেত্রে মানবিক কারণে WA স্থগিত করে তাকে অবশিষ্ট টাকা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে পারেন।
হাইকোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিকার:
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করলে যেসব প্রতিকার পাওয়া যাবে সেগুলো হলো- Stay of Execution- গ্রেফতারি পরোয়ানা বা দেওয়ানি আটকাদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ, Release from Jail- যদি দায়িক ব্যক্তি ইতিমধ্যে জেলে থাকেন, তবে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তির নির্দেশ, Payment in Installments- হাইকোর্ট অনেক সময় সাম্যিক (Equitable) ক্ষমতা ব্যবহার করে দায়িককে ১২টি বা ১৮টি সমান মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধের সুযোগ দিয়ে পরোয়ানা স্থগিত রাখেন, এবং Set aside the Order/Suit- যদি আদেশটি সম্পূর্ণ বেআইনি হয়, তবে তা বাতিল করে দিতে পারেন।
উপসংহার:
৩৪ ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি দায়িক ব্যক্তিকে ব্যাপক সুরক্ষা দিয়েছে (বিশেষ করে উত্তরাধিকারী ও নাবালকদের ক্ষেত্রে)। এছাড়া ৩৪(৯) ও ৩৪(১২) ধারা দুটি ব্যাংক ও আদালতের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। যদি ব্যাংক এই সুরক্ষাকবচগুলো লঙ্ঘন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায়, তবে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করাই হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার একমাত্র আইনি পথ। ৩৪ ধারার গ্রেফতারি পরোয়ানা বা দেওয়ানি আটকাদেশ ঋণ আদায়ের একটি হাতিয়ার মাত্র, এটি কারো মৌলিক অধিকার হরণের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়। যদি ব্যাংক ৩৩ ধারার ধাপগুলো না মেনে বা দায়িকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করে পরোয়ানা জারি করে, তবে দ্রুত হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করাই হচ্ছে প্রধান আইনি সুরক্ষা। সাধারণত হাইকোর্ট ডিক্রিকৃত টাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ জমা দেওয়ার শর্তে ব্যক্তিকে স্বাধীনতা ও কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকেন।
মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +৮৮ ০১৭১১ ৯৯ ৩৬ ৩৯
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com