অর্থজারী মামলা সংক্রান্তে হাইকোর্টে রীট (পর্ব- ০৭): ৩৩(৭) ধারার মালিকানাসত্ত্বের সনদপত্র জারী কে চ্যালেঞ্জ

 

অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩(৭) ধারা মোতাবেক মালিকানা স্বত্বের সনদপত্র জারী করতে হলে তার পূর্বে ৩৩ ধারা অনুযায়ী দু’বার নিলাম বিক্রয়ে ব্যর্থ হতে হবে। যখন ডিক্রিদার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩(১), (২), (২ক), (২খ), (২গ), (৩) ও (৪) ধারা নিলাম-সংক্রান্ত ধাপগুলো প্রতিপালন করে ঋণ সমন্বয় করার জন্য বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয় করতে না পারে তখন ডিক্রিদার ব্যাংক সরাসরি আদালতে কাছে আবেদন করে বন্ধকী সম্পত্তির 'মালিকানা' বা 'স্বত্ব' বা মালিকানার সনদপত্র (Title Certificate/Certificate of ownership) নিতে পারবে। এই ধারায় জারীকৃত সনদপত্রটি সরাসরি একটি 'সত্ত্বের দলিল' (Document of Title) হিসেবে গণ্য হয়। তবে যেহেতু এটি একজন নাগরিকের সম্পত্তির অধিকার চিরতরে খর্ব করে, তাই এই সনদ জারির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আইনি বিচ্যুতি থাকলে তা মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

নিচে ৩৩(৭) ধারার মালিকানাস্বত্বের সনদপত্র জারীকে চ্যালেঞ্জ করার গ্রাউন্ডসমূহ:

আইনের ৩৩(৭) এবং ৩৩(৭খ) ধারার পাঠ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালতকে বেশ কিছু কঠোর পূর্বশর্ত মানতে হয়।

নিলাম প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক বিধানবলী লঙ্ঘন:
৩৩(৭) ধারায় সনদপত্র দেওয়ার পূর্বশর্ত হলো, আইনের ৩৩(১) থেকে ৩৩(৪) ধারা পর্যন্ত উল্লেখিত নিলাম প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হতে হবে। যদি আদালত দুটি সঠিক নিলাম (প্রথম ও দ্বিতীয়) আহ্বান না করেই ব্যাংককে সনদপত্র দিয়ে দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। ৩৩(৭) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—"আদালত, উপ-ধারা (১), (২), (২ক), (২খ), (২গ) ও (৩) এর বিধানাবলীর কোনরূপ হানি না ঘটাইয়া..." এই সনদপত্র জারী করবেন। অর্থাৎ, আইনানুগ ও স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়া ছাড়া ব্যাংক সরাসরি মালিকানা দাবি করতে পারে না। তা সত্ত্বেও যদি সনদপত্র জারী করা হয়, তাহলে তা অবৈধ হবে। আইন অনুসারে নোটিশ ও নিলাম প্রক্রিয়া না মানলে মালিকানাসনদ ইস্যু patently illegal। অর্থাৎ, নিলাম যথাযথ না হলে ৩৩(৭) সনদের বৈধতা থাকে না। Decree-holder সনদপত্র নিতে চাইলে Adalat-কে আগে ৩৩(১)-(৩)-এর auction route অনুসরণ করতে হবে; ৩৩(৭) কোনো shortcut নয়। অর্থাৎ mandatory first auction ছাড়া certificate issuance challengeযোগ্য। সেই সনদপত্র জারীকে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে।

উদাহরণ-১ (নিলাম প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া):
'ক' ব্যাংকের কাছে ১ কোটি টাকা ঋণের দায়ে 'খ'-এর একটি জমি বন্ধক আছে। আদালত ডিক্রি দেওয়ার পর ব্যাংক জারি মামলা করে। আইন অনুযায়ী, প্রথম নিলামে বিক্রি না হলে দ্বিতীয় নিলাম ডাকতে হবে। কিন্তু ব্যাংক ও আদালত যোগসাজশে বা ভুলে দ্বিতীয় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই সরাসরি ৩৩(৭) ধারায় ব্যাংককে সম্পত্তির মালিকানার সনদ দিয়ে দেয়। 'খ' হাইকোর্টে রিট করে প্রমাণ করেন যে ৩৩(৩) ধারার বিধান মানা হয়নি। হাইকোর্ট সনদপত্রটি বাতিল করে দেবেন।

উদাহরণ-২ (পদ্ধতিগত ত্রুটি):
ব্যাংক জারি মামলায় ৩৩(১) ধারায় একটি অখ্যাত পত্রিকায় নিলামের বিজ্ঞাপন দিল। মাত্র ১০ দিন সময় দেওয়া হলো (আইনত ১৫ দিন বাধ্যতামূলক)। কোনো দরদাতা এল না। ব্যাংক সাথে সাথে ৩৩(৭) এর আবেদন করল এবং আদালত মালিকানা সনদ দিয়ে দিলেন। এখানে বিজ্ঞপ্তির সময় কম হওয়ায় এবং প্রচারণা সঠিক না হওয়ায় হাইকোর্ট ৩৩(৭) সনদটি বাতিল করতে পারেন।

বিচারিক নজির: উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, যদি পূর্ববর্তী নিলাম প্রক্রিয়া (৩৩ (১-৪)) ত্রুটিপূর্ণ থাকে বা যথাযথ প্রচারণা না থাকে, তবে তার ওপর ভিত্তি করে ইস্যুকৃত ৩৩(৭) ধারার সনদ আইনত টিকবে না। আদালত বলেছেন, এই সনদটি আগের ধাপগুলোর বৈধতার ওপর নির্ভরশীল।

নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ দিনের সময়সীমার বাধ্যতামূলক:
৩৩(৭) ধারার নিলামপ্রক্রিয়ায় নূন্যতম ১৫ দিনের সময় দানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা, নোটিশের ১৫ দিনের সময়সীমা না মানা। যদি প্রথম নিলাম (৩৩-১) যথাযথভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করা না হয় বা ১৫ দিনের সময় না দেওয়া হয়, তবে সরাসরি ৩৩(৭) এর সনদ দেওয়া এখতিয়ার বহির্ভূত।

লিখিত আবেদনের অনুপস্থিতি:
৩৩(৭) ধারার অধীনে মালিকানা পেতে হলে ডিক্রীদার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই আদালতে একটি "লিখিত আবেদন" দাখিল করতে হবে। যদি আদালত ডিক্রীদার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আবেদন ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) বা কেবল মৌখিক আবেদন বা অনুরোধের ভিত্তিতে এই মালিকানাস্বত্বের সনদপত্র জারী করে, তবে সেই সনদপত্র সরাসরি ৩৩(৭) ধারাকে লঙ্ঘন করে। সেই লঙ্ঘনকে চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যাবে।

সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিতকরণের ব্যর্থতা- ধারা ৩৩(৭খ) লঙ্ঘন:
এটি রিট করার সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাউন্ড। ৩৩(৭খ) অনুযায়ী, দখল বা মালিকানা অর্পণের পূর্বে আদালতকে "পুনঃ নিশ্চিত (Re-satisfied)" হইতে হইবে যে- সম্পত্তিটি আইনানুগভাবে প্রকৃত মালিক কর্তৃক বন্ধক দেওয়া হয়েছিল অথবা ডিক্রি কার্যকর করিবার লক্ষ্যে দায়িকের প্রকৃত স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হিসাবে এটি ক্রোক করা হয়েছিল। যদি আদালত এই ভেরিফিকেশন বা যাচাই না করে ভুল সম্পত্তি বা এমন কোনো জমি যা বন্ধক ছিল না তার ওপর সনদপত্র জারী করে, তবে তা সরাসরি চ্যালেঞ্জযোগ্য। অনেক সময় ব্যাংক ও আদালত যান্ত্রিকভাবে আরজিতে উল্লিখিত তফসিল অনুযায়ী সনদ দেয়, যা ৩৩(৭খ)-এর পরিপন্থী।

৭খ ধারায বলা হয়েছে “উপ-ধারা (৭ক) এর অধীন ডিক্রীদারকে সম্পত্তির দখল অর্পণ করিবার পূর্বে আদালতকে পুনঃ নিশ্চিত হইতে হইবে যে, উক্ত সম্পত্তিই আইনানুগভাবে উহার প্রকৃত মালিক কর্তৃক ডিক্রীর সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে বন্ধক প্রদান করা হইয়াছিল অথবা ডিক্রী কার্যকর করিবার লক্ষ্যে দায়িকের প্রকৃত স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি হিসাবে উক্ত সম্পত্তিই ক্রোক করা হইয়াছিল।”

উদাহরণ-১ (ভুল সম্পত্তি ৩৩-৭খ):
জনাব রহমান তার পৈত্রিক ভিটার একটি নির্দিষ্ট দাগের জমি বন্ধক দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক আরজিতে ভুলে তার অন্য একটি দাগের জমি (যা বন্ধক ছিল না) অন্তর্ভুক্ত করল। আদালত ৩৩(৭খ) অনুযায়ী রেকর্ড যাচাই না করেই ওই ভুল দাগের ওপর মালিকানাস্বত্তের সনদপত্র দিয়ে দিলেন। এটি সরাসরি ৩৩(৭খ) ধারার লঙ্ঘন এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের মাধ্যমে এই সনদপত্র কে চ্যালেঞ্জ করে বাতিল করা সম্ভব।

উদাহরণ-২: সম্পত্তিতে তৃতীয়পক্ষের title dispute ঝুলে আছে, কিন্তু ৩৩(৭)-এর certificate দেওয়া হয়েছে এবং পরে possession handover করতে গিয়ে real ownership inquiry করা হয়নি। ৩৩(৭)(kha)-এর কাঠামো অনুযায়ী এই ধরনের অবহেলা challengeযোগ্য হতে পারে।

বিচারিক নজির: উচ্চ আদালতে সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, ৩৩(৭) ধারার সনদপত্র ইস্যু করার আগে আদালতকে ৩৩(৭খ) অনুযায়ী সম্পত্তির মালিকানা ও বন্ধক সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সিদ্ধান্তে (Judicial Finding) পৌঁছাতে হবে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতার অধিকার খর্ব করা- ধারা ৩৩(৩) লঙ্ঘন:
যদি নিলামে কোনো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা থাকে এবং তার দর ও বাজেয়াপ্ত জামানত মিলে প্রথম দরের সমান হয়, তবে ৩৩(৩) অনুযায়ী তাকে সম্পত্তিটি দিতে হবে। তাকে সুযোগ না দিয়ে সরাসরি ব্যাংককে ৩৩(৭) সনদ দেওয়া আইনের ব্যত্যয়।

সম্পত্তির চরম অবমূল্যায়ন (Gross Undervaluation of Property):
৩৩(৭) ধারার অধীনে ব্যাংককে সম্পত্তির মালিকানা দিলে, সম্পত্তির মূল্যের সমপরিমাণ ডিক্রির টাকা আদায় হয়েছে বলে গণ্য হয়। যদি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য ডিক্রিকৃত টাকার চেয়ে অনেক বেশি হয়, কিন্তু আদালত তা মূল্যায়ন না করেই ব্যাংককে পুরো সম্পত্তির সনদ দিয়ে দেয়, তবে তা দায়িকের প্রতি চরম অবিচার। আদালত কর্তৃক স্বাধীন সার্ভেয়ার বা ভ্যালুয়ার নিয়োগ করে সম্পত্তির সঠিক বাজারদর নির্ধারণ না করার আবেদন করা যায় এবং এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা যায়।

উচ্চ আদালত বিভিন্ন রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন যে, ৩৩(৭) ধারায় সনদ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক দায়িকের সব সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে নিয়ে নেবে। সম্পত্তির মূল্য যদি ডিক্রির চেয়ে বেশি হয়, তবে আদালতকে অবশ্যই সম্পত্তির সেই অংশটুকুর সনদ দিতে হবে যা ডিক্রির টাকার সমপরিমাণ, অথবা বাড়তি টাকা দায়িককে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

উদাহরণ (সম্পত্তির মূল্যের অসামঞ্জস্যতা):
ব্যাংকের ডিক্রির পরিমাণ ২ কোটি টাকা। বন্ধকী জমির বর্তমান বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকা। আদালত ৩৩(৭) ধারায় ব্যাংককে পুরো জমির সনদপত্র দিয়ে দিলো, কিন্তু বাকি ৮ কোটি টাকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিলো না। এটি আইনের পরিপন্থী। কারণ ব্যাংক শুধুমাত্র ডিক্রির সমপরিমাণ সম্পত্তির মালিকানা পেতে পারে। এই গ্রাউন্ডে রিট করলে হাইকোর্ট আদেশটি স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন।

Fraud, collusion বা mala fide থাকলে:
যদি নিলাম বিক্রয় প্রক্রিয়া সাজানো হয়ে থাকে, দরদাতাদের মধ্যে যোগসাজশ থাকে, বা কৃত্রিমভাবে auction process বিকৃত করা হয়ে থাকে, আদালত তা nullity হিসেবে দেখতে পারে। একাধিক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে fraud auction process-কে ভেঙে দেয়; “fraud vitiates everything” নীতি এখানে প্রাসঙ্গিক।

উদাহরণ:
ব্যাংক ও দরদাতার যোগসাজশে খুব অল্প সময়ে নিলাম ডেকে সম্পত্তি কম দামে নেওয়া হলো, অথচ বাস্তব প্রতিযোগিতা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে fraud-এর কারণে পুরো auction process nullity হতে পারে।

নোটিশ প্রদান ও শুনানির সুযোগ না দেওয়া:
সনদপত্র ইস্যু করার আগে বা ডিক্রি জারির কার্যক্রম চলাকালীন যদি দায়িককে (Judgment Debtor) কোনো নোটিশ না দেওয়া হয়, তবে তা 'অডি অল্টারাম পার্টেম' (Audi Alteram Partem - উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা) নীতির পরিপন্থী। ৩৩(৭) সনদপত্র জারী করার পূর্বে ঋণগ্রহিতা বন্ধকদাতাকে নোটিশ দিয়ে তার বক্তব্য, ওজর, আপত্তি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৩৩(৭) ধারার সনদ জারির আগে দায়িককে (Judgment Debtor) কোনো নোটিশ না দেওয়া বা তার কোনো আপত্তি (যেমন- ঋণের অংকের সাথে সম্পত্তির মূল্যের অসামঞ্জস্য) শোনার সুযোগ না দেওয়া রিট করার অন্যতম ভিত্তি। জালিয়াতি করে বা ভুল ঠিকানায় নোটিশ জারির প্রতিবেদন দাখিল করে একতরফাভাবে

তৃতীয় পক্ষের অধিকার (Third Party Rights):
যে সম্পত্তির সনদপত্র ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি মূল ঋণগ্রহীতার না হয়ে অন্য কোনো নির্দোষ তৃতীয় পক্ষের হয় (যিনি বন্ধক দেননি), তবে তিনি রিট করতে পারেন। যদিও আইনে তৃতীয় পক্ষের দাবির বিধান আছে, কিন্তু দাবি খারিজ হলে বা শুনানির সুযোগ না দিলে রিট করা যায়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও Violation of Natural Justice:
যদি judgment-debtor বা প্রকৃত স্বত্বাধিকারীকে শোনা না হয়, অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে notice না দিয়ে certificate issue করা হয়, তবে তা রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।  ৩৩(৭)(ka) ও ৩৩(৭)(kha)-এর সারাংশে দেখা যায়, possession handover করার আগে আদালতকে real ownership বিষয়ে inquiry করতে হয়; তাই প্রকৃত মালিক, ঋণগ্রহীতা বা তৃতীয়পক্ষ আপত্তি/বক্তব্য শুনবার সুযোগ না দিয়ে সনদপত্র জারী করা হয়, যদি তা অগ্রাহ্য করে certificate বা consequential order দেওয়া হয়, তাহলে natural justice এর পরিপন্থী হবে এবং এর গ্রাউন্ডে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে প্রতিকার চাওয়া যাবে।

আদালত তার এখতিয়ার ছাড়িয়ে গেলে (coram non judice):
যখন certificate এমন প্রক্রিয়ায় ইস্যু করা হয়, যা আইনের text ও scheme-এর সঙ্গে মেলে না, তখন orderটি coram non judice বা without lawful authority হিসেবে চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে।

৩৩(৫) বা ৩৩(৭)-এর certificate ইস্যুর পর execution case সাধারণত শেষ হয়ে যায় এবং court functus officio হয়ে পড়ে; তবে ৩৩(৭)(ka)/(kha)-এর সীমিত কাজ বাকি থাকতে পারে। এই finality-র কারণেই certificate challenge দ্রুত ও যথাযথ ground-এ আনতে হয়।

হাইকোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে যেসব প্রতিকার পাওয়া যাবে:
সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট পিটিশনে মাধ্যমে যেসব প্রতিকার পেতে পারেন সেগুলো হল Stay of the Certificate- ৩৩(৭) সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা, নামজারি (Mutation) এবং দখল হস্তান্তরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ, Setting aside the Order/Suit- যদি ৩৩(৭খ) বা ৩৩(১) লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে হাইকোর্ট পুরো মালিকানা সনদটি বাতিল ঘোষণা করেন, Direction for Re-valuation- সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পাওনা সমন্বয়ের নির্দেশ, Remand to Adalat- মামলাটি পুনরায় নিম্ন আদালতে পাঠিয়ে ৩৩(৭খ) অনুযায়ী রেকর্ড যাচাই করার নির্দেশ। 

উপসংহার:
৩৩(৭)-এর মালিকানাসত্ত্বের সনদপত্র চ্যালেঞ্জ করার ground গুলো হলো- বাস্তব নিলাম না হওয়া, notice-প্রক্রিয়ার ত্রুটি, fraud/mala fide, natural justice লঙ্ঘন, এবং এখতিয়ারবহির্ভূত certificate issuance। কেবল মূল্য নিয়ে অসন্তোষ বা সাধারণ factual dispute সাধারণত যথেষ্ট নয়; কিন্তু আইনের মৌলিক শর্ত ভাঙলে writ petition গ্রহণযোগ্য হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে। ৩৩(৭) ধারার সনদটি কোনো সাধারণ আদেশ নয়, এটি একটি চূড়ান্ত মালিকানা দলিল। বিশেষ করে ৩৩(৭খ) ধারাটি ঋণগ্রহীতার জন্য একটি বড় রক্ষাকবচ। যদি আদালত এই রক্ষাকবচ উপেক্ষা করে বা ব্যাংক ৩৩(১) থেকে (৩) ধারার ধাপগুলো যথাযথভাবে পালন না করে মালিকানা পেতে চায়, তবে উচ্চ আদালতে রিট করে আপনার পৈত্রিক বা অর্জিত সম্পত্তি রক্ষা করা সম্ভব।


মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +৮৮ ০১৭১১ ৯৯ ৩৬ ৩৯
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com