বাণিজ্যিক আদালতে মামলা (পর্ব-১৮): ট্রেডমার্ক (Trademarks) সংক্রান্তে বাণিজ্যিক বিরোধ
ভূমিকা:
যেকোনো ব্যবসার সবচেয়ে মূল্যবান অদৃশ্য সম্পদ হলো তার ব্র্যান্ডের নাম, লোগো বা প্রতীক, যাকে আইনি ভাষায় 'ট্রেডমার্ক' (Trademark) বলা হয়। বাংলাদেশে ট্রেডমার্কের নিবন্ধন, সুরক্ষা এবং অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রধান আইন হলো 'ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯'। একটি ব্র্যান্ড জনপ্রিয়তা পেলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তা নকল করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে, যা মূল কোম্পানির সুনাম ও আর্থিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো নকল করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে, যা থেকে মারাত্মক আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ধারা ২(ঘ)(১৬)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯" থেকে উদ্ভূত যেকোনো আইনি বিরোধ একটি 'বাণিজ্যিক বিরোধ' (Commercial Dispute) হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন বা পাসিং অফ-এর মতো মামলাগুলো এখন সাধারণ দেওয়ানি আদালতের দীর্ঘসূত্রিতার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে বাণিজ্যিক আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
নিচে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ এর আলোকে যেসব কারণে বা গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়, তা একাধিক বাস্তব উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রতারণামূলক নিবন্ধন এবং নিবন্ধন বাতিল (Fraudulent Registration and Rectification of Register):
অনেক সময় অসাধু ব্যক্তিরা বিদেশি বিখ্যাত ব্র্যান্ড বা অন্যের পরিচিত নাম গোপনে নিজেদের নামে ট্রেডমার্ক অফিসে নিবন্ধন করে নেয়। যেসব গ্রাউন্ডে/কারণে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করার কার্যকারণ উদ্ভব হয়: (১) বদ উদ্দেশ্যে (Bad faith) অন্যের বিখ্যাত বা সুপরিচিত ব্র্যান্ড (Well-known mark) নিজের নামে নিবন্ধন করা। (২) ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের পর টানা ৫ বছর (বা তার বেশি) সময় ধরে তা ব্যবসায় ব্যবহার না করা (Non-use)। এবং (৩) ট্রেডমার্কের রেজিস্টার বা নিবন্ধন খাতা সংশোধন (Rectification) করার আবেদন।
বাস্তব উদাহরণ ১ (বিদেশি ব্র্যান্ড আত্মসাৎ):
আমেরিকান বৈদ্যুতিক গাড়ির বিখ্যাত কোম্পানি "Tesla" বাংলাদেশে আসার আগেই, ঢাকার একজন লোকমেশিন ব্যবসায়ী "Tesla" নাম ও লোগোটি বাংলাদেশে নিজের নামে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করে রাখল। যখন আসল টেসলা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে আসবে, তখন ওই ব্যবসায়ী তাদের কাছে ট্রেডমার্ক বিক্রির নামে বিশাল অংকের চাঁদা দাবি করবে। আসল টেসলা কোম্পানি তখন "বদ উদ্দেশ্যে (Bad faith) নিবন্ধন এবং সুপরিচিত মার্ক (Well-known mark) লঙ্ঘনের" গ্রাউন্ডে ওই ব্যবসায়ীর নিবন্ধন বাতিল বা সংশোধনের জন্য বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করবে।
বাস্তব উদাহরণ ২ (অব্যবহার বা Non-use):
একটি কোম্পানি "BlueStar" নামে সাবানের ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করে, কিন্তু গত ৭ বছর ধরে তারা এই নামে কোনো সাবান বানায়নি বা বিক্রি করেনি। অন্য একটি নতুন কোম্পানি এই নামটি ব্যবহার করতে চায়। নতুন কোম্পানিটি তখন "টানা ৫ বছরের বেশি সময় ধরে অব্যবহারের (Non-use)" গ্রাউন্ডে পূর্ববর্তী নিবন্ধনটি বাতিল করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে।
২. নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন (Infringement of Registered Trademark)
ট্রেডমার্ক আইনের সবচেয়ে পরিচিত বিরোধ হলো ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন। যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো মালিকের পূর্ব-নিবন্ধিত (Registered) ট্রেডমার্কের হুবহু বা বিভ্রান্তিকরভাবে সদৃশ (Deceptively similar) কোনো নাম, লোগো বা প্রতীক অনুমতি ছাড়া ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, তখন এই বিরোধ সৃষ্টি হয়।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৪ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যদি কোনো ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত (Registered) থাকে, তবে অন্য কেউ একই বা অনুরূপ পণ্য/সেবার জন্য সেই ট্রেডমার্ক বা বিভ্রান্তিকরভাবে সদৃশ (Deceptively similar) কোনো ট্রেডমার্ক ব্যবহার করতে পারবে না। অননুমোদিত ব্যবহারের ফলে মূল মালিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং ইনজাংশন (নিষেধাজ্ঞা) চেয়ে মামলা করতে পারেন।
মামলার গ্রাউন্ড/কারণ; (১) নিবন্ধিত ব্র্যান্ড নাম বা লোগো অনুমতি ছাড়া নিজের পণ্যে ব্যবহার করা। এবং (২) এমন কোনো নাম ব্যবহার করা যা উচ্চারণ বা দেখতে আসল ব্র্যান্ডের মতো এবং যা সাধারণ ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ ১ (নাম ও লোগো নকল):
'PRAN' (প্রাণ) একটি সুপরিচিত এবং নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক। একজন অসাধু ব্যবসায়ী তার উৎপাদিত জুসের বোতলে হুবহু একই রকম ফন্ট ও রঙের লোগো ব্যবহার করে 'PRAM' (প্রাম) নামে বাজারে ছাড়ল, যাতে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হয়ে প্রাণের পণ্য ভেবে সেটি কেনে। প্রাণ কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা করতে পারবে।
বাস্তব উদাহরণ ২ (ভোগ্যপণ্যের লোগো নকল):
ধরুন, ‘A’ কোম্পানি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট নীল রঙের লোগোতে ‘PureMilk’ নামে দুধ বাজারজাত করছে এবং এটি নিবন্ধিত। ‘B’ কোম্পানি বাজারে এসে একই লোগো ও রঙের বিন্যাস ব্যবহার করে ‘PureMilky’ নামে পণ্য ছাড়ল। এক্ষেত্রে ‘A’ কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারবে এই গ্রাউন্ডে যে, ‘B’ কোম্পানির মার্কটি ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে তাদের বাজার নষ্ট করছে ।
বাস্তব উদাহরণ ৩ (বিভ্রান্তিকর সাদৃশ্য):
বাংলাদেশের স্বনামধন্য জুতার ব্র্যান্ড "Bata" (বাটা)। একজন অসাধু ব্যবসায়ী হুবহু একই রকম ফন্ট ও লাল রঙের লোগো ব্যবহার করে "Bata" এর বদলে "Bota" বা "Data" নামে জুতা বাজারে ছাড়ল। সাধারণ ক্রেতা একনজরে দেখলে বাটা মনে করেই তা কিনে নেবে। এক্ষেত্রে আসল ব্র্যান্ড মালিক ট্রেডমার্ক আইনের অধীন "ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের" গ্রাউন্ডে ওই অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ইনজাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) ও ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।
বাস্তব উদাহরণ ৪ (হুবহু নকল):
একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি "Walton" (ওয়ালটন) নামে নিবন্ধিত। অন্য একজন ব্যবসায়ী চীন থেকে নিম্নমানের টেলিভিশন এনে তাতে হুবহু "Walton" স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি শুরু করল। এটি সরাসরি ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে।
বাস্তব উদাহরণ ৫ (ইলেকট্রনিক্স পণ্য):
দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট 'Walton'-এর ট্রেডমার্ক রেজিস্টার করা। অন্য একটি কোম্পানি চীন থেকে নিম্নমানের টেলিভিশন আমদানি করে তার গায়ে 'Wolton' বা 'Walten' স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি শুরু করল। এটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সরাসরি লঙ্ঘন।
বাস্তব উদাহরণ ৬ (ওষুধ শিল্পে নাম ও নকশার সাদৃশ্য):
ওয়েলকাম ফাউন্ডেশন লিমিটেড বনাম ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড মামলায় বাদী পক্ষের ‘SEPTRIM’ মার্কের বিপরীতে বিবাদী ‘SUPTRIM’ মার্ক ব্যবহার শুরু করেছিল । এই ক্ষেত্রে গ্রাউন্ড ছিল যে, বিবাদীর মার্কটি উচ্চারণগত এবং চাক্ষুষভাবে বাদীর মার্কের সাথে অত্যন্ত সদৃশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে ।
২. 'পাসিং অফ' বা অন্যের পণ্য নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া (Passing Off):
ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত (Registered) না থাকলেও দীর্ঘদিনের ব্যবহারের ফলে কোনো ব্র্যান্ড বা পণ্যের প্যাকেজিং (Get-up) যদি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম (Goodwill) অর্জন করে, তবে কেউ তা নকল করতে পারবে না। একে 'পাসিং অফ' বলে।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড: ট্রেডমার্ক যদি নিবন্ধিত নাও থাকে (Unregistered), তবুও দীর্ঘদিনের ব্যবহারের কারণে কোনো ব্র্যান্ডের যদি বাজারে সুনাম (Goodwill) তৈরি হয়, তবে কেউ সেই ব্র্যান্ডের নাম বা মোড়ক নকল করে ক্রেতাকে ধোঁকা দিতে পারবে না। ট্রেডমার্ক আইনের ধারা ২৪(২) অনুযায়ী, নিজের পণ্যকে অন্যের স্বনামধন্য পণ্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়াকে 'পাসিং অফ' বলে এবং এটি বাণিজ্যিক আদালতে বিচারযোগ্য।
মামলার গ্রাউন্ড/কারণ; (১) অনিবন্ধিত কিন্তু সুপরিচিত ব্র্যান্ডের নাম নকল করে নিজের নিম্নমানের পণ্যকে আসল কোম্পানির পণ্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। এবং, (২) প্যাকেজিংয়ের রঙ, আকৃতি বা ডিজাইন হুবহু নকল করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করা।
বাস্তব উদাহরণ ১ (নাম নকল করে প্রতারণা):
পুরান ঢাকায় "হাজী বিরিয়ানি" নামে একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও শতবর্ষী রেস্তোরাঁ রয়েছে (ধরে নিচ্ছি তাদের ট্রেডমার্ক করা নেই)। সুনামকে পুঁজি করে অন্য একজন ব্যক্তি অন্য এলাকায় "নিউ হাজী বিরিয়ানি" বা "আদি হাজী বিরিয়ানি" নামে রেস্তোরাঁ খুলে বসল, যাতে মানুষ মনে করে এটি মূল রেস্তোরাঁরই কোনো শাখা। মূল মালিক তখন নিজের গুডউইল রক্ষার্থে "পাসিং অফ" এর গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।
বাস্তব উদাহরণ ২ (প্যাকেজিং নকল):
"প্রাণ ঝাল মুড়ি" এর একটি নির্দিষ্ট হলুদ রঙের মোড়ক এবং বিশেষ ফন্টের ডিজাইন রয়েছে যা মানুষের কাছে পরিচিত। অন্য একটি কোম্পানি "খান ঝাল মুড়ি" নামে একটি পণ্য বের করল, যার মোড়কের রঙ, সাইজ এবং ছবি হুবহু প্রাণের মোড়কের মতো। যদিও নাম আলাদা, কিন্তু প্যাকেজিং নকল করে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার কারণে প্রাণ কোম্পানি "পাসিং অফ" এর মামলা করতে পারবে।
বাস্তব উদাহরণ ৩ (মোড়ক বা ট্রেড ড্রেস নকল):
একটি লোকাল চানাচুর কোম্পানি অনেক বছর ধরে বিশেষ একটি হলুদ ও লাল রঙের প্যাকেটে চানাচুর বিক্রি করে, যা ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। নতুন একটি কোম্পানি তাদের প্যাকেটের ডিজাইন, রং ও ছবি হুবহু নকল করে চানাচুর বাজারে ছাড়ল। ক্রেতারা প্যাকেটের রং দেখে বিভ্রান্ত হলে প্রথম কোম্পানিটি পাসিং অফ-এর মামলা করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ ৪ (টাঙ্গাইলের চমচম এবংকুমিল্লার রসমালাই):
টাঙ্গাইলের 'পোড়াবাড়ী চমচম' বা কুমিল্লার 'মাতৃভাণ্ডার'-এর মতো অনেক পুরোনো ও বিখ্যাত মিষ্টির দোকানের ট্রেডমার্ক হয়তো নিবন্ধিত নয়, কিন্তু দেশজুড়ে তাদের সুনাম আছে। এখন অন্য কেউ যদি ঠিক একই নামে এবং একই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে মিষ্টির দোকান খোলে, তবে মূল মালিক 'পাসিং অফ'-এর গ্রাউন্ডে ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করতে পারবেন।
বাস্তব উদাহরণ ৫ (ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান):
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধরুন ‘মরণ চাঁদ গ্র্যান্ড সন্স’একটি অত্যন্ত পুরাতন মিষ্টির দোকান যারা তাদের নাম নিবন্ধন করেনি। এখন অন্য কেউ একই নাম দিয়ে দোকান খুলে মিষ্টি বিক্রি শুরু করল। এক্ষেত্রে মূল মালিক বাণিজ্যিক আদালতে পাসিং অফের গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারবেন যে, বিবাদী তার ব্যবসার শতবর্ষী সুনাম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ক্রেতা আকর্ষণ করছে ।
বাস্তব উদাহরণ ৬ (লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড):
‘L’ একটি জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস যা নিবন্ধিত নয় কিন্তু দেশজুড়ে শাখা আছে। ‘M’ কোম্পানি একই ধরণের সাইনবোর্ড ও নাম ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করল। এক্ষেত্রে ‘L’ কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে এই গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারবে যে, বিবাদী প্রতারণামূলকভাবে তাদের কাস্টমারদের বিভ্রান্ত করছে ।
৩. সুপরিচিত ট্রেডমার্কের অবমূল্যায়ন বা ডাইলুশন (Dilution of Well-Known Trademarks):
মামলার গ্রাউন্ড: 'সুপরিচিত ট্রেডমার্ক' (Well-known Trademark) বলতে সেসব ব্র্যান্ডকে বোঝায় যাদের খ্যাতি একটি নির্দিষ্ট খাতের বাইরেও বিস্তৃত। ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী, কোনো সুপরিচিত ব্র্যান্ডের নাম যদি অন্য কোনো সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতের পণ্যের জন্যও ব্যবহার করা হয় এবং এর ফলে মূল ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ বা অবমূল্যায়িত (Diluted) হয়, তবে মামলা করা যায়।
বাস্তব উদাহরণ ১ (ভিন্ন খাতের পণ্য):
'Bata' (বাটা) জুতার জন্য একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ট্রেডমার্ক। এখন কেউ যদি 'Bata' নামে বাজারে মশার কয়েল বা হার্ডওয়্যার সামগ্রী বিক্রি শুরু করে, তবে ক্রেতারা ভাবতে পারে এটি বাটা কোম্পানিরই কোনো সাবসিডিয়ারি। বাটা কোম্পানি তাদের ব্র্যান্ডের ডাইলুশন রোধে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ ২ (আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড):
'Rolex' ঘড়ির একটি আন্তর্জাতিক সুপরিচিত ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি যদি 'Rolex' নামে নিম্নমানের বিস্কুট বা ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদন শুরু করে, তবে রোলেক্স ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে মামলা হতে পারে।
৪. ট্রেডমার্ক লাইসেন্সিং ও ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি ভঙ্গ (Breach of Trademark Licensing and Franchise Agreements):
ব্র্যান্ড মালিকরা অনেক সময় চুক্তির বিনিময়ে অন্যদের তাদের ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অধিকার দেন (যেমন: ফ্র্যাঞ্চাইজি)। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ট্রেডমার্ক ব্যবহার করলে বিরোধ তৈরি হয়।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড: অনেক সময় ট্রেডমার্কের মালিক চুক্তির মাধ্যমে অন্য কাউকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অধিকার (License) দেন। যদি লাইসেন্স গ্রহীতা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ট্রেডমার্ক ব্যবহার চালিয়ে যান, বা শর্ত ভঙ্গ করে ট্রেডমার্কের মান নষ্ট করেন, তবে তা একটি বড় বাণিজ্যিক বিরোধ।
মামলার গ্রাউন্ড/কারণ; (১) ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লাইসেন্স চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বা বাতিল হওয়ার পরও ট্রেডমার্ক ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া। (২) চুক্তিতে উল্লেখিত পণ্যের মানের শর্ত (Quality control) বজায় না রাখা, যা মূল ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। এবং (৩) মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া সাব-লাইসেন্স (Sub-license) দেওয়া।
বাস্তব উদাহরণ ১ (আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজ):
ধরুন একটি আন্তর্জাতিক ফাস্ট ফুড চেইন বাংলাদেশের একটি কোম্পানিকে তাদের নাম ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়েছে এই শর্তে যে, তারা নির্দিষ্ট রেসিপি এবং হাইজিন মেনে চলবে। কিন্তু বাংলাদেশি কোম্পানিটি স্থানীয় সস্তা উপকরণ ব্যবহার শুরু করল। এক্ষেত্রে মূল কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে এই গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারবে যে, বিবাদী চুক্তির মানদণ্ড ভঙ্গ করে ব্র্যান্ডটির বৈশ্বিক ইমেজ নষ্ট করছে ।
বাস্তব উদাহরণ ২ (প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন):
একটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড তাদের লোগো ব্যবহারের অনুমতি দিল একটি স্থানীয় ফ্যাক্টরিকে শুধু এসি তৈরির জন্য। কিন্তু ফ্যাক্টরিটি একই লোগো দিয়ে ফ্রিজও তৈরি শুরু করল। এটি চুক্তির পরিধি লঙ্ঘনের গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক বিরোধের সৃষ্টি করবে ।
বাস্তব উদাহরণ ৩ (ভৌগোলিক সীমানা লঙ্ঘন):
'Apex' জুতা কোম্পানি তাদের একজন ডিলারকে শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগের জন্য 'Apex' ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির লাইসেন্স দিল। কিন্তু ওই ডিলার অনুমতি ছাড়াই 'Apex' নাম ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে জুতা রপ্তানি শুরু করল। এটি লাইসেন্স চুক্তির লঙ্ঘন।
বাস্তব উদাহরণ ৪ (ফ্র্যাঞ্চাইজি বাতিল):
একটি বাংলাদেশি কোম্পানি আমেরিকার 'KFC'-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে রেস্টুরেন্ট চালায়। কিন্তু খাবারের মান খারাপ হওয়ায় KFC কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করে দেয়। চুক্তি বাতিলের পরও যদি দেশীয় কোম্পানিটি রেস্টুরেন্টের সামনে KFC-এর সাইনবোর্ড ও লোগো ব্যবহার করতে থাকে, তবে KFC বাণিজ্যিক আদালতে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন ও চুক্তিভঙ্গের মামলা করবে।
বাস্তব উদাহরণ ৫ (মেয়াদ উত্তীর্ণ ব্যবহার):
একটি স্থানীয় কোম্পানি গ্লোবাল চেইন "KFC" এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিল। চুক্তির মেয়াদ ছিল ৫ বছর। ৫ বছর পর চুক্তি নবায়ন না হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় কোম্পানিটি "KFC" এর সাইনবোর্ড এবং লোগো ব্যবহার করে বার্গার ও ফ্রাইড চিকেন বিক্রি চালিয়ে যেতে লাগল। KFC কর্তৃপক্ষ "লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও বেআইনি ট্রেডমার্ক ব্যবহারের" গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করবে।
বাস্তব উদাহরণ ৬ (মান নিয়ন্ত্রণ লঙ্ঘন):
একটি বিখ্যাত পোশাকের ব্র্যান্ড তাদের নাম ব্যবহার করে শার্ট তৈরির জন্য একটি কারখানাকে লাইসেন্স দেয়। শর্ত ছিল কাপড়ের মান হতে হবে প্রিমিয়াম। কিন্তু কারখানাটি বেশি লাভের আশায় খুব সস্তা ও নিম্নমানের কাপড় দিয়ে ওই ব্র্যান্ডের শার্ট বানিয়ে বাজারে ছাড়তে শুরু করে, ফলে ব্র্যান্ডটির চরম বদনাম হয়। ব্র্যান্ড মালিক "মান নিয়ন্ত্রণের শর্তভঙ্গ এবং সুনামের ক্ষতির" কারণে চুক্তি বাতিল ও ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন।
৫. ট্রেডমার্ক স্বত্ব নিয়োগ বা হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ (Assignment Disputes):
ট্রেডমার্কের মালিকানা পরিবর্তন বা স্বত্ব নিয়োগ (Assignment) একটি জটিল বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে বা জালিয়াতি হলে তা বাণিজ্যিক বিরোধ হিসেবে গণ্য হয় ।
বাস্তব উদাহরণ ১ (রানি (RANI) ট্রেডমার্ক মামলা):
ডেনিশ ফুডস লিমিটেড বনাম ফ্যামিলি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ মামলায় দেখা যায় যে, বাবর চাকলাদার নামক এক ব্যক্তি তার পরিত্যক্ত ট্রেডমার্ক অ্যাপ্লিকেশনটি ডেনিশ ফুডসের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন । আদালত রায় দেন যে, পরিত্যক্ত মার্ক হস্তান্তরের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বাণিজ্যিক আদালতে এই ধরণের মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হস্তান্তরের অবৈধতাকে গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।
বাস্তব উদাহরণ ২ (কোম্পানি টেকওভার):
ধরুন ‘X’ কোম্পানি ‘Y’ কোম্পানিকে কিনে নেওয়ার সময় তাদের ট্রেডমার্কের মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তি করল। পরবর্তীতে দেখা গেল ‘Y’ কোম্পানি আগেই ওই মার্কটি অন্য কাউকে গোপনে হস্তান্তর করে রেখেছে। এক্ষেত্রে ‘X’ কোম্পানি জালিয়াতি ও চুক্তির গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারবে ।
৬. ট্রেডমার্কের মিথ্যা বর্ণনা এবং নকল পণ্য (False Trade Description & Counterfeiting):
মামলার গ্রাউন্ড: ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো পণ্যে মিথ্যা ট্রেডমার্ক লাগানো বা নকল (Counterfeit) পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ যদি সুকৌশলে নামিদামি ব্র্যান্ডের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে বাজারে ভেজাল বা নকল পণ্য ছাড়ে, তবে মূল কোম্পানি আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ ১ (কসমেটিকস ও প্রসাধন):
একজন আমদানিকারক চীন থেকে ড্রামভর্তি সাধারণ মানের শ্যাম্পু ও ক্রিম আমদানি করে। এরপর দেশে বসে সেগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড 'Dove' বা 'Lakme'-এর নকল স্টিকার ও ট্রেডমার্ক লাগিয়ে আসল পণ্য বলে বাজারে বিক্রি করে। মূল ব্র্যান্ডগুলোর পরিবেশকরা এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক আইনে মামলা করতে পারেন।
বাস্তব উদাহরণ ২ (ওষুধ শিল্প):
একটি অসাধু চক্র 'Square' ফার্মাসিউটিক্যালসের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের হুবহু ট্রেডমার্ক এবং ব্লিস্টার প্যাক (Blister Pack) তৈরি করে ভেতরে ময়দার বড়ি ভরে বাজারে ছাড়ল। এটি স্কয়ার কোম্পানির ট্রেডমার্কের চরম লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। কোম্পানিটি অবিলম্বে বাণিজ্যিক আদালতে এর বিরুদ্ধে মামলা করবে।
৬. নকল পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও কাস্টমস বিরোধ (Import/Export of Counterfeit Goods)
ট্রেডমার্ক আইনের আওতায় নকল ব্র্যান্ডের পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি একটি বড় বাণিজ্যিক বিরোধ।
মামলার গ্রাউন্ড/কারণ; (১) অন্য দেশ থেকে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের নকল (Counterfeit) বা ক্লোন পণ্য আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা। এবং (২) নকল পণ্য বন্দরে আসার পর ট্রেডমার্ক মালিকের অভিযোগে কাস্টমস কর্তৃক তা বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে বিরোধ।
বাস্তব উদাহরণ (নকল কসমেটিকস আমদানি):
"Unilever" এর বিখ্যাত ব্র্যান্ড "Sunsilk" শ্যাম্পুর নকল কপি চীন থেকে আমদানি করে এক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের গোয়েন্দা দল খবর পেয়ে কাস্টমসকে জানায় এবং কাস্টমস ওই চালানটি আটকে দেয়। আমদানিকারক নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে, ইউনিলিভার বাংলাদেশ ওই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে "নকল পণ্য আমদানি করে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের" সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করবে, যাতে পণ্যগুলো ধ্বংসের আদেশ পাওয়া যায়।
৭. স্থানীয় এজেন্ট বা প্রতিনিধি কর্তৃক ট্রেডমার্কের অপব্যবহার (Misuse by Agent or Representative):
মামলার গ্রাউন্ড: বিদেশি কোম্পানির ট্রেডমার্ক স্থানীয়ভাবে সুরক্ষার জন্য অনেক সময় তাদের দেশীয় এজেন্ট বা পরিবেশকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী, মূল মালিকের সম্মতি ছাড়া কোনো এজেন্ট যদি বিদেশি কোম্পানির ট্রেডমার্ক নিজের নামে বাংলাদেশে নিবন্ধন করিয়ে নেয়, তবে সেটি অবৈধ।
বাস্তব উদাহরণ (বিদেশি ব্র্যান্ড আত্মসাৎ):
জাপানের একটি বিখ্যাত গাড়ির পার্টস নির্মাতা কোম্পানির বাংলাদেশি একমাত্র পরিবেশক (Sole Distributor) ছিল 'X' কোম্পানি। জাপানি কোম্পানিটি বাংলাদেশে তাদের ট্রেডমার্ক রেজিস্টার করার আগে, 'X' কোম্পানি গোপনে ওই ট্রেডমার্কটি নিজের নামে বাংলাদেশে রেজিস্টার করে ফেলল এবং পরে জাপানি কোম্পানিকেই ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করল। জাপানি কোম্পানিটি এই অবৈধ নিবন্ধন বাতিল করতে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে।
৮. ডোমেইন নাম এবং সাইবার-স্কোয়াটিং সংক্রান্ত বিরোধ (Domain Name Disputes):
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(১৬)-তে বিশেষভাবে ‘ডোমেইন নাম’ সংক্রান্ত বিরোধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । ডিজিটাল বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে ডোমেইন নাম এখন একটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ট্রেডমার্ক হিসেবে কাজ করে ।
মামলা দায়েরের গ্রাউন্ড বা কারণসমূহ: (১) বিভ্রান্তিকর সাদৃশ্য ও ব্যাড ফেইথ: অন্যের সুপরিচিত ট্রেডমার্কের সাথে মিল রেখে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করা। (২) সাইবার-স্কোয়াটিং: কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নামে আগেভাগে ডোমেইন কিনে রাখা যাতে পরবর্তীতে তাদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা যায়। এবং (৩) আইনগত অধিকারের অভাব: বিবাদীর ওই নামের ওপর কোনো প্রকৃত ব্যবসা বা অধিকার নেই এবং তারা শুধুমাত্র মূল ব্র্যান্ডের ট্রাফিক চুরি করার জন্য ডোমেইনটি ব্যবহার করছে ।
বাস্তব উদাহরণ ১ (লাইনবেট-বিডি (Linebet-bd.net) মামলা):
এই ক্ষেত্রে বিবাদী মূল প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে ডোমেইন খুলে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দাবি করে বেটিং সার্ভিস দিচ্ছিল । এক্ষেত্রে গ্রাউন্ড ছিল বাদীর প্রতিষ্ঠিত ট্রেডমার্কের ব্যাড ফেইথ ব্যবহার এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি।
বাস্তব উদাহরণ ২ (বিটিসিএল ডোমেইন বিরোধ):
যখন কোনো ডোমেইন রেজিস্ট্রার (যেমন বিটিসিএল) অযৌক্তিকভাবে কোনো কোম্পানির ডোমেইন বন্ধ করে দেয়, তখন ভুক্তভোগী কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে তাদের অনলাইন ট্রেডমার্ক ও ডোমেইন অধিকার রক্ষার গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারবে ।
উপসংহার:
ট্রেডমার্ক শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি একটি ব্যবসার দীর্ঘদিনের অর্জিত বিশ্বাস ও সুনামের প্রতিচ্ছবি। ট্রেডমার্ক চুরি হলে একটি কোম্পানি আর্থিকভাবে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় তাদের সুনামের। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ২(ঘ)(১৬) ধারার মাধ্যমে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর বিরোধগুলোকে বাণিজ্যিক আদালতের আওতায় আনায় এখন প্রকৃত ব্র্যান্ড মালিকরা নকলবাজদের হাত থেকে দ্রুত ও কার্যকর আইনি সুরক্ষা পাবেন, যা বাংলাদেশে একটি উদ্ভাবনী ও মেধাভিত্তিক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
ফোন: +8801771599577
ইমেইল: lawyer.kamruzzaman@gmail.com