বাণিজ্যিক আদালতে মামলা (পর্ব-০৪): বিমান, বিমানের ইঞ্জিন-সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার সংশ্লিষ্ট লেনদেন (বিক্রয়, লিজ ও অর্থায়ন) সংক্রান্তে বাণিজ্যিক বিরোধ ও প্রতিকার
বিমান, বিমান ইঞ্জিন, বিমান সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার সম্পর্কিত লেনদেন (বিক্রয়, লিজ ও অর্থায়ন) সংক্রান্ত বাণিজ্যিক বিরোধগুলোর দ্রুত আইনি প্রতিকারের জন্য বাংলাদেশে তেমন ব্যবস্থা ছিল না। এখন নবগঠিত বাণিজ্যিক আদালতে এসব বিরোধের নিরসন দ্রুতই হবে। একটি বিমান বা হেলিকপ্টার কেনা, লিজ নেওয়া বা এর রক্ষণাবেক্ষণের সাথে জড়িত থাকে শত শত কোটি টাকার লেনদেন। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনকে আইনি সুরক্ষা দিতেই 'বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬' এর ধারা ২(ঘ)(৩) প্রণয়ন করা হয়েছে।
ধারা ২(ঘ)(৩) এ বলা হয়েছে: "বিমান, বিমান ইঞ্জিন, বিমান সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার সম্পর্কিত লেনদেন, যাহার মধ্যে বিক্রয়, লিজ ও অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত"—এমন বিষয় থেকে উদ্ভূত বিরোধগুলো বাণিজ্যিক আদালতের এখতিয়ারাধীন "বাণিজ্যিক বিরোধ" হিসেবে গণ্য হবে।
এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব এভিয়েশন সেক্টরের এই নির্দিষ্ট ধারার অধীনে কী কী ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কোন কোন সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।
ধারা ২(ঘ)(৩) এর অধীন সৃষ্ট বাণিজ্যিক বিরোধসমূহ ও বাস্তব উদাহরণ এবং যেসব গ্রাউন্ডে/কারণে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করা যায়:
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারার অধীনে এভিয়েশন সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড বা কারণগুলোর ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে:
বিমান বা হেলিকপ্টার ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ (Sale and Purchase Disputes):
বিমান বা হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক (Manufacturer) এবং এয়ারলাইন্স বা ক্রেতার মধ্যে ক্রয় চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন থেকে এই বিরোধ তৈরি হয়। বিমান বা হেলিকপ্টার ক্রয়-বিক্রয় (Sale and Purchase) সংক্রান্ত বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন।
বাস্তব উদাহরণ ১ (ডেলিভারিতে বিলম্ব): বাংলাদেশের একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কোম্পানি ফ্রান্সের এয়ারবাস (Airbus) কোম্পানির সাথে ৩টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলিভারি দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রস্তুতকারক কোম্পানি সাপ্লাই চেইনের অজুহাত দেখিয়ে ডেলিভারি ১ বছর পিছিয়ে দেয়। এতে এয়ারলাইন্সটি তাদের নতুন রুটের টিকিট বিক্রি করে পরে তা বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং বিশাল লোকসানে পড়ে।
বাস্তব উদাহরণ ২ (কারিগরি ত্রুটি): একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের নির্বাহীদের যাতায়াতের জন্য কানাডা থেকে একটি ভিআইপি হেলিকপ্টার ক্রয় করে। কিন্তু বাংলাদেশে এনে চালানোর এক মাসের মধ্যেই দেখা যায় হেলিকপ্টারের নেভিগেশন সিস্টেমে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে, যা চুক্তির স্পেসিফিকেশনের সাথে মেলে না। প্রস্তুতকারক তা বিনামূল্যে ঠিক করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বিমান বিক্রয় পরবর্তী গুণগত মান ও চুক্তির শর্ত সংক্রান্ত বিরোধ (Sales Disputes):
বিমান বিক্রয় চুক্তি অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল হয়, যেখানে বিমানের প্রতিটি ব্যবস্থার এয়ারওয়ার্দিনেস (Airworthiness) বা উড্ডয়নযোগ্যতা এবং কারিগরি মান নিয়ে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি দেওয়া থাকে । বিক্রেতা যদি চুক্তিতে উল্লিখিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিমান সরবরাহ না করে বা বিমানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়, তবে এই ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিমান বিক্রয় পরবর্তী গুণগত মান ও চুক্তির শর্ত সংক্রান্ত বিরোধ (Sales Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: ব্যবহৃত বিমানের অবস্থা গোপন করাএকটি বেসরকারি এয়ারলাইন কোম্পানি একটি বিদেশি বিক্রেতার কাছ থেকে একটি ব্যবহৃত এমব্রেয়ার লেগাসি ৬০০ বিমান কেনার চুক্তি করল। চুক্তিতে বিক্রেতা উল্লেখ করেছিল যে বিমানটির সকল ইঞ্জিন এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নির্ধারিত জীবনকাল (Life cycle) অনুযায়ী নবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু হস্তান্তরের পর ক্রেতা যখন বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা করল, তখন দেখা গেল যে বাম পাশের ইঞ্জিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুক্তিতে বর্ণিত মানের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহৃত এবং এটি অবিলম্বে পরিবর্তনের প্রয়োজন, যা ক্রেতার জন্য অতিরিক্ত ৫ লাখ ডলারের ব্যয় নিয়ে আসে । এক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ এবং তথ্যের ভুল উপস্থাপনের (Misrepresentation) দায়ে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ ২: ডেলিভারি বিলম্ব ও স্পেসিফিকেশন পরিবর্তনএকটি কার্গো এয়ারলাইন কোম্পানি বিশেষ ধরনের একটি বিমান অর্ডারের সময় তার কার্গো ডোর এবং ওজনের ধারণক্ষমতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছিল। নির্মাতা কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ছয় মাস দেরিতে বিমানটি সরবরাহ করল এবং দেখা গেল যে কার্গো ডোরের মাপ চুক্তির চেয়ে ভিন্ন, যার ফলে এয়ারলাইনটি তাদের নির্দিষ্ট আকারের কন্টেইনার বহন করতে পারছে না । এই ক্ষেত্রে বিলম্বিত সরবরাহের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং চুক্তির শর্তানুযায়ী মান না হওয়ার কারণে সৃষ্ট বিরোধটি এই ধারার অধীনে বিচারযোগ্য হবে।
বিমান লিজ বা ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ (Aircraft Leasing Disputes):
বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স বিমান কিনে না চালিয়ে লিজ বা ভাড়ায় (Dry Lease বা Wet Lease) চালায়। লিজ কোম্পানি (Lessor) ও এয়ারলাইন্সের (Lessee) মধ্যকার বিরোধ এভিয়েশন সেক্টরে সবচেয়ে সাধারণ। বিমান লিজ বা ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ (Aircraft Leasing Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১ (ভাড়া বকেয়া): আয়ারল্যান্ডের একটি এয়ারক্রাফট লিজিং কোম্পানি বাংলাদেশের একটি এয়ারলাইন্সকে মাসিক ৫ লাখ ডলারে ২টি বোয়িং ৭৩৭ বিমান লিজ দেয়। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে এয়ারলাইন্সটি টানা ৪ মাস লিজের ভাড়া (Lease rent) পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। লিজিং কোম্পানি এখন বিমান ফেরত চাচ্ছে এবং বকেয়া টাকা দাবি করছে।
বাস্তব উদাহরণ ২ (ফেরত দেওয়ার সময় শর্তভঙ্গ/Return Condition Dispute): ৫ বছরের লিজ চুক্তি শেষে একটি এয়ারলাইন্স যখন বিমানটি লিজিং কোম্পানিকে ফেরত দিচ্ছে, তখন পরিদর্শনে দেখা যায় বিমানের ইঞ্জিন চুক্তিতে উল্লেখিত "রক্ষণাবেক্ষণ মান" (Maintenance standard) অনুযায়ী মেরামত করা হয়নি। লিজিং কোম্পানি ইঞ্জিন ওভারহোলিং-এর জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা দাবি করে বসে।
লিজ রেন্টাল পরিশোধে ব্যর্থতা ও পেমেন্ট ডিফল্ট (Leasing Payment Defaults):
এভিয়েশন জগতে ‘অপারেটিং লিজ’ বা ‘ফাইন্যান্স লিজ’ অত্যন্ত প্রচলিত। লিজ গ্রহণকারী (Lessee) যদি নিয়মিত লিজের কিস্তি বা রেন্টাল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে লিজ প্রদানকারী (Lessor) আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে । এভিয়েশন চুক্তিতে প্রায়শই ‘হেল অর হাই ওয়াটার’ (Hell or High Water) ক্লজ থাকে, যা যে কোনো পরিস্থিতিতে রেন্টাল পরিশোধ বাধ্যতামূলক করে। লিজ রেন্টাল পরিশোধে ব্যর্থতা ও পেমেন্ট ডিফল্ট (Leasing Payment Defaults) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: মহামারীর কারণে ফ্লাইট বন্ধ ও রেন্টাল ডিফল্টএকটি আন্তর্জাতিক লিজ কোম্পানি থেকে তিনটি বিমান লিজ নিয়েছিল একটি দেশীয় এয়ারলাইন। বৈশ্বিক বা জাতীয় কোনো সংকটের (যেমন—মহামারী বা যুদ্ধ) কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনটি ছয় মাস যাবত রেন্টাল পরিশোধ করতে পারেনি। লিজ কোম্পানি চুক্তির ‘পেমেন্ট ডিফল্ট’ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করে এবং বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি বিমানগুলো পুনরায় দখলে নেওয়ার (Repossession) দাবি জানায় । এই বিরোধটি ধারা ২(ঘ)(৩)-এর অধীনে সরাসরি একটি বাণিজ্যিক বিরোধ।
বাস্তব উদাহরণ ২: গ্যারান্টি এনফোর্সমেন্ট বিরোধঅনেক সময় এয়ারলাইন কোম্পানির প্রধান বা অন্য কোনো প্যারেন্ট কোম্পানি বিমানের লিজের জন্য কর্পোরেট গ্যারান্টি দেয়। যদি এয়ারলাইনটি রেন্টাল দিতে ব্যর্থ হয় এবং লিজ কোম্পানি গ্যারান্টার কোম্পানির কাছ থেকে টাকা দাবি করে কিন্তু গ্যারান্টার তা অস্বীকার করে, তবে এই অর্থায়ন ও লিজ সংশ্লিষ্ট বিরোধটি বাণিজ্যিক আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ।
লিজ শেষে বিমান ফেরতের শর্ত ও রক্ষণাবেক্ষণ রিজার্ভ (Redelivery & Maintenance Reserve Disputes):
বিমান লিজের ক্ষেত্রে ‘মেইনটেন্যান্স রিজার্ভ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এয়ারলাইন কোম্পানিকে ওড়ার সময়সীমা অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লিজ কোম্পানিকে একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা দিতে হয় । লিজ শেষে বিমানটিকে একটি নির্দিষ্ট কারিগরি অবস্থায় (Technical condition) ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে, যাকে রেডেলিভারি কন্ডিশন বলা হয়। লিজ শেষে বিমান ফেরতের শর্ত ও রক্ষণাবেক্ষণ রিজার্ভ (Redelivery & Maintenance Reserve Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: রেডেলিভারি কন্ডিশন লঙ্ঘনএকটি এয়ারলাইন তাদের লিজ নেওয়া বিমান ফেরত দেওয়ার সময় লিজ কোম্পানি দাবি করল যে বিমানের ইঞ্জিনের ল্যান্ডিং গিয়ারের অবস্থা চুক্তিতে উল্লিখিত ‘মিড-লাইফ’ কন্ডিশনের চেয়েও খারাপ। লিজ কোম্পানির মতে, বিমানটি পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করতে আরও ২ কোটি টাকা খরচ করতে হবে। অন্যদিকে এয়ারলাইনটি দাবি করে যে তারা সঠিকভাবেই রক্ষণাবেক্ষণ করেছে । এই কারিগরি এবং আর্থিক বিরোধটি অধ্যাদেশের আওতায় একটি বড় বাণিজ্যিক বিরোধ।
বাস্তব উদাহরণ ২: রক্ষণাবেক্ষণ রিজার্ভের অর্থ ফেরত বা ব্যবহারএকটি ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির অধীনে ফ্লেক্সজেট (Flexjet) এবং হানিওয়েল (Honeywell) এর মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং সেবার মান নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে মতভেদ ছিল । বাংলাদেশে যদি কোনো এয়ারলাইন এবং এমআরও (MRO) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ ফান্ডের অর্থ ব্যবহার বা মেরামত কাজের বিল নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তা এই ধারার অধীনে আসবে।
বিমান অর্থায়ন ও বন্ধক সংক্রান্ত বিরোধ (Aviation Financing & Mortgage/Security Interest Disputes):
বিমান কেনার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিশাল অঙ্কের ঋণ দেয়, তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে এই বিরোধ ঘটে। বিমানের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিমানের ওপর মর্টগেজ বা সিকিউরিটি ইন্টারেস্ট রাখে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিমান জব্দ বা বিক্রয় করার অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। বিমান অর্থায়ন ও বন্ধক সংক্রান্ত বিরোধ (Aviation Financing & Mortgage/Security Interest Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১ (ঋণখেলাপি ও দখল): বাংলাদেশের একটি ব্যাংক একটি কার্গো এয়ারলাইন্সকে দুটি কার্গো বিমান কেনার জন্য ২০০ কোটি টাকা ঋণ দেয় এবং বিমান দুটি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ বা বন্ধক রাখা হয়। এয়ারলাইন্সটি ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক এখন বিমান দুটির দখল নিয়ে তা নিলামে বিক্রি করে টাকা আদায় করতে চায়, কিন্তু এয়ারলাইন্সটি বিমান হস্তান্তর করতে বাধা দেয়।
বাস্তব উদাহরণ ২ (ইন্স্যুরেন্স বা বীমার টাকা নিয়ে বিরোধ): ফাইন্যান্স কোম্পানির অর্থে কেনা একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ক্ষতিপূরণের ১০০ কোটি টাকা দিলে, সেই টাকা কি ফাইন্যান্স কোম্পানি পুরোটা নিয়ে যাবে নাকি এয়ারলাইন্স কিছু অংশ পাবে, তা নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী বিরোধ দেখা দেয়।
বাস্তব উদাহরণ ৩: লিয়েন ও মর্টগেজ অগ্রাধিকার বিরোধএকটি ব্যাংক একটি হেলিকপ্টার কেনার জন্য অর্থ প্রদান করেছে এবং হেলিকপ্টারের ওপর তাদের মর্টগেজ রয়েছে। অন্যদিকে, একটি রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MRO) দাবি করেছে যে তারা হেলিকপ্টারটির একটি বড় মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে কিন্তু বিল পায়নি, তাই তাদের ‘পসেসরি লিয়েন’ (Possessory Lien) রয়েছে এবং তারা হেলিকপ্টারটি ছাড়বে না । এই ক্ষেত্রে কার দাবি আগে পূরণ হবে (Priority ranking), তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বাণিজ্যিক আদালতে সমাধান করা হবে।
বাস্তব উদাহরণ ৪: আইডেরা (IDERA) এবং বিহীনকরণ বিরোধকেপ টাউন কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো ঋণদাতা যদি বিমানের মালিকানা বা দখল ফেরত পাওয়ার জন্য আইডেরা ব্যবহার করতে চায় এবং এয়ারলাইন যদি তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করে যে খেলাপি হওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন, তবে এই অর্থায়ন সংক্রান্ত বিরোধটি এই ধারার অধীনে আসবে ।
বিমান ইঞ্জিন, সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিরোধ (Aircraft Equipment & Maintenance Disputes):
বিমান শুধু কিনলেই হয় না, এর স্পেয়ার পার্টস, এভিওনিক্স সরঞ্জাম এবং নিয়মিত মেইনটেন্যান্স (MRO) অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিমান ইঞ্জিন, সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিরোধ (Aircraft Equipment & Maintenance Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১ (পার্টস সাপ্লাই জালিয়াতি): একটি এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির কাছ থেকে বিমানের জন্য ১০টি ল্যান্ডিং গিয়ার ক্রয়ের চুক্তি করে। কিন্তু ডেলিভারির পর দেখা যায় সেগুলো সার্টিফাইড বা আসল পার্টস নয়, বরং নকল সরঞ্জাম, যা ফ্লাইটের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বাস্তব উদাহরণ ২ (সার্ভিস বিল বকেয়া এবং লিয়েন): একটি ইঞ্জিন মেরামতের কারখানা (MRO) একটি এয়ারলাইন্সের বিমানের ইঞ্জিন মেরামত করে। কিন্তু এয়ারলাইন্স মেরামতের বিল পরিশোধ না করায়, কারখানাটি ইঞ্জিনটি আটকে রাখে (Mechanic's lien প্রয়োগ করে) এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত ইঞ্জিন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়।
বিমান সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ সংক্রান্ত বিরোধ (Equipment & Avionics Disputes):
বিমানের ইঞ্জিন ছাড়াও অন্যান্য সরঞ্জাম—যেমন এভিয়নিক্স সিস্টেম, ল্যান্ডিং গিয়ার কিট বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম—সরবরাহ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। বিমান সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ সংক্রান্ত বিরোধ (Equipment & Avionics Disputes) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: ত্রুটিপূর্ণ এভিয়নিক্স সরবরাহএকটি বিদেশি কোম্পানি একটি এয়ারলাইনকে নতুন জিপিএস এবং রাডার সিস্টেম সরবরাহ করল। ইনস্টলেশনের পর দেখা গেল সিস্টেমটি বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছে, যার ফলে পাইলটদের জন্য নিরাপদ উড্ডয়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরবরাহকারী দাবি করছে এটি এয়ারলাইনের বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে হচ্ছে। এই ধরনের বিশেষায়িত সরঞ্জাম সংক্রান্ত বিরোধটি ধারা ২(ঘ)(৩)-এর অধীনে বাণিজ্যিক আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য।
বাস্তব উদাহরণ ২: আপডেট বা লাইসেন্সিং বিরোধবিমানের সফটওয়্যার বা এভিয়নিক্স ডাটাবেস আপডেট করার জন্য একটি সার্ভিস চুক্তির অধীনে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া। যেমন—সফটওয়্যার সরবরাহকারী যদি চুক্তির চেয়ে অতিরিক্ত ফি দাবি করে অথবা জরুরি নিরাপত্তা আপডেট দিতে অস্বীকার করে, তবে তা বাণিজ্যিক বিরোধ হিসেবে গণ্য হবে।
চুক্তিভঙ্গ ও বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি (Claim for Damages due to Breach of Contract):
চুক্তিভঙ্গ ও বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি (Claim for Damages due to Breach of Contract) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ডেলিভারি দিতে ২ বছর দেরি করায় এয়ারলাইন্স যে শত কোটি টাকার সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু নষ্ট হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা।
বাস্তব উদাহরণ ২: লিজের বিমান ফেরত দেওয়ার সময় সিট ও ইন্টেরিয়র চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় লিজিং কোম্পানি সেই মেরামতের খরচের ক্ষতিপূরণ চেয়ে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা (Specific Performance of Contract):
এটি মূলত বিমান ক্রয় বা লিজ চুক্তির শুরুতে হয়, যখন বিকল্প কোনো সমাধান সম্ভব হয় না। চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা (Specific Performance of Contract) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: একটি ভিআইপি এয়ার ট্যাক্সি কোম্পানি একটি বিশেষ মডেলের হেলিকপ্টার কিনেছে, যা শুধু নির্দিষ্ট একটি রুটে চলার জন্য কাস্টমাইজ করা। বিক্রেতা এখন বেশি লাভের আশায় সেটি অন্য ক্রেতাকে দিতে চাইছে। এয়ার ট্যাক্সি কোম্পানি আদালতে মামলা করতে পারে যেন বিক্রেতাকে টাকা ফেরতের বদলে "নির্দিষ্ট সেই হেলিকপ্টারটিই" সরবরাহ করতে বাধ্য করা হয়।
বাস্তব উদাহরণ ২: এয়ারলাইন্স এবং লিজারের মধ্যে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও লিজার শেষ মুহূর্তে বিমান ডেলিভারি দিতে অস্বীকৃতি জানালে এয়ারলাইন্স সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার মামলা করতে পারে।
চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন (Fundamental Breach of Contract):
ব্যাখ্যা: এভিয়েশন চুক্তিতে প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। পেমেন্ট শিডিউল, ডেলিভারি ডেট বা বিমানের ওজনের সীমা—এসবের যেকোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলেই অপর পক্ষ এই গ্রাউন্ডে প্রতিকার চাইতে পারে।
যদি বিক্রয়, লিজ বা অর্থায়ন চুক্তির এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এক পক্ষ ভঙ্গ করে যা চুক্তির উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে, তবে সেটি একটি প্রাথমিক গ্রাউন্ড । চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন (Fundamental Breach of Contract) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ: একটি এয়ারলাইন একটি কোম্পানির কাছ থেকে বিমান লিজ নিয়েছিল এই শর্তে যে, লিজদাতা বিমানটিকে নির্ধারিত রুট পারমিট অনুযায়ী এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেট (Certificate of Airworthiness) সহ হস্তান্তর করবে। কিন্তু লিজদাতা তা দিতে ব্যর্থ হলো, ফলে বিমানটি এক মাস যাবত হ্যাঙ্গারে পড়ে রইল এবং এয়ারলাইনটি মুনাফা হারাল। এক্ষেত্রে ‘মৌলিক চুক্তিভঙ্গ’ গ্রাউন্ডে মামলা করা যাবে।
বকেয়া ভাড়া ও পাওনা আদায়ের দাবি (Suit for Recovery of Lease Rent/Loan Dues):
বিমান লিজের ভাড়া বা ব্যাংক ঋণের কিস্তি আটকে গেলে এই গ্রাউন্ডে মামলা করা হয়। বকেয়া ভাড়া ও পাওনা আদায়ের দাবি (Suit for Recovery of Lease Rent/Loan Dues) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: লিজিং কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারে এই গ্রাউন্ডে যে, "এয়ারলাইন্সটি চুক্তির শর্ত ভেঙে গত ৬ মাসের লিজের ভাড়া (Rent) দেয়নি, তাই মহামান্য আদালত যেন দ্রুত এই বকেয়া পাওনা আদায়ের ডিক্রি প্রদান করেন।"
বাস্তব উদাহরণ ২: ব্যাংক মামলা করতে পারে যে, "এয়ারলাইন্সটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে, তাই সুদসহ আসলের সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হোক।"
বিমান বা হেলিকপ্টার বাজেয়াপ্তকরণ/দখল উদ্ধার (Repossession of Aircraft/Helicopter):
লিজ বাতিল হলে বা ঋণখেলাপি হলে, মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই গ্রাউন্ড ব্যবহার করা হয়। বিমান বা হেলিকপ্টার বাজেয়াপ্তকরণ/দখল উদ্ধার (Repossession of Aircraft/Helicopter) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: লিজিং কোম্পানি আদালতে আবেদন করতে পারে যে, "যেহেতু লিজ বাতিল করা হয়েছে, তাই এয়ারলাইন্স যেন অবিলম্বে বিমানের ফিজিক্যাল পজেশন (দখল) আমাদের বুঝিয়ে দেয় এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হোক যেন তারা আমাদের বিমান নিয়ে যেতে বাধা না দেয়।"
বাস্তব উদাহরণ ২: বন্ধক গ্রহীতা (ব্যাংক) আদালতের কাছে তাদের মর্টগেজ করা হেলিকপ্টারটি বাজেয়াপ্ত করে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারে।
দখল পুনরুদ্ধার ও উড্ডয়ন বন্ধকরণ (Repossession and Grounding):
ব্যাখ্যা: এভিয়েশন একটি অতি-দ্রুতগামী শিল্প। কোনো এয়ারলাইন যদি খেলাপি হয় এবং তারা যদি বিমানটি উড্ডয়ন করতে থাকে, তবে যন্ত্রাংশের মান কমে যাওয়ার বা বিমানটি অন্য দেশে সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। তাই দ্রুত ‘ইন্টারিম রিলিফ’বা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের জন্য এই গ্রাউন্ড ব্যবহৃত হয়।
লিজ বা অর্থায়নের কিস্তি খেলাপি হলে দ্রুততম সময়ে বিমানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা এর উড্ডয়ন বন্ধ করার জন্য এই গ্রাউন্ডটি ব্যবহৃত হয়। দখল পুনরুদ্ধার ও উড্ডয়ন বন্ধকরণ (Repossession and Grounding) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ: একটি লিজ কোম্পানি দেখল যে তাদের লিজগ্রহীতা এয়ারলাইনটি দেউলিয়া হওয়ার পথে এবং ইতোমধ্যে অনেক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। লিজ কোম্পানি বাণিজ্যিক আদালতে আবেদন জানাল যাতে অবিলম্বে বিমানটি গ্রাউন্ড করা হয় এবং এর দখল লিজ কোম্পানিকে দেওয়া হয় যাতে পাওনাদাররা বিমানটি বিক্রি করে টাকা আদায় করতে পারে ।
জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন (Injunction to prevent flight/removal of parts):
বিবাদের সময় এয়ারলাইন্স যেন বিমানটি দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে বা এর ইঞ্জিন খুলে বিক্রি করতে না পারে, তার জন্য এই গ্রাউন্ডে জরুরি মামলা হয়। জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন (Injunction to prevent flight/removal of parts) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ ১: একটি বিদেশি লিজার (Lessor) জানতে পারল যে ডিফল্ট করা এয়ারলাইন্সটি রাতের আঁধারে বিমানটি অন্য কোনো দেশে ফ্লাই করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা সাথে সাথে বাণিজ্যিক আদালতে "নিষেধাজ্ঞা বা ইনজাংশন" চেয়ে মামলা করতে পারে, যাতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (CAAB) ওই বিমানের উড্ডয়ন বাতিল করে।
বাস্তব উদাহরণ ২: ইঞ্জিন ওভারহোল কোম্পানি আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা করতে পারে যাতে এয়ারলাইন্স তাদের বকেয়া বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত ইঞ্জিনটি অন্য কোনো বিমানে সংযোজন করতে না পারে।
উড্ডয়নযোগ্যতা ও কারিগরি মানের মিথ্যা তথ্য প্রদান (Fraudulent Misrepresentation):
ব্যাখ্যা: যখন বিক্রেতা বা লিজদাতা সচেতনভাবে বিমানের ত্রুটি লুকায় বা ইঞ্জিনের ওড়ার ঘণ্টা (Flying hours) ভুলভাবে পরিবেশন করে, তখন ক্রেতা বা লিজগ্রহীতা প্রতারণার দায়ে মামলা করতে পারে।
বিমানের কারিগরি অবস্থা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপর পক্ষকে চুক্তিতে আবদ্ধ করা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি গ্রাউন্ড। উড্ডয়নযোগ্যতা ও কারিগরি মানের মিথ্যা তথ্য প্রদান (Fraudulent Misrepresentation) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ: একটি ব্যবহৃত বিমান কেনার সময় বিক্রেতা গ্যারান্টি দিয়েছিল যে বিমানটি কখনও কোনো বড় দুর্ঘটনায় পড়েনি। কিন্তু পরে দেখা গেল যে ৩ বছর আগে বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছিল যা গোপন করা হয়েছে । এই ক্ষেত্রে ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশন’ এবং ‘প্রতারণা’ গ্রাউন্ডে চুক্তি বাতিলের মামলা করা যাবে।
নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance):
ব্যাখ্যা: যদি কোনো বিশেষ সাজসজ্জার বিজনেস জেট বা কোনো নির্দিষ্ট মডেলের বিমান—যা বাজারে বর্তমানে সহজলভ্য নয়—বিক্রির চুক্তি হয়ে থাকে এবং বিক্রেতা তা দিতে অস্বীকার করে, তবে আদালত বিক্রেতাকে ওই বিমানটিই সরবরাহ করার আদেশ দিতে পারেন।
যখন বিমানের মতো কোনো বিরল বা অনন্য সম্পদের লেনদেন হয় এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয় বলে বিবেচিত হয়, তখন এই গ্রাউন্ডে মামলা করা যায় । নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance) বা এরকম বাণিজ্যিক বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিরসনের জন্য বা প্রতিকারের জন্য সংক্ষুব্ধপক্ষ বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৩) ধারায় বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন এবং দ্রুত প্রতিকার পেতে পারেন। বিষয়টি ভারভাবে বুঝার স্বার্থে নিচে উদাহরণ পেশ করা হল:
বাস্তব উদাহরণ: একটি মেডিকেল ইভাকুয়েশন (Medevac) কোম্পানি একটি হেলিকপ্টার নির্মাতা কোম্পানির সাথে চুক্তি করল যাতে তাদের জন্য একটি বিশেষ জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ হেলিকপ্টার তৈরি করা হয়। নির্মাতা কোম্পানি হেলিকপ্টারটি তৈরি করার পর অন্য একটি দেশের কাছে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করল। ক্রেতা কোম্পানি এখানে ‘স্পেসিফিক পারফরম্যান্স’ গ্রাউন্ডে মামলা করল যাতে আদালত নির্মাতাকে ওই হেলিকপ্টারটিই তাদের দিতে বাধ্য করেন।
কেপ টাউন কনভেনশন ও আইডিইআরএ (IDERA) এনফোর্সমেন্ট:
বাংলাদেশ কেপ টাউন ক