হাইকোর্টে আপনার অধিকার ও প্রতিকার (পর্ব-১)
পর্ব-১:
আপনি কি জানেন হাইকোর্টে আপনার জন্য কি কি অধিকার রয়েছে? আপনি কি এটা জানেন যে, হাইকোর্টের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে আপনারই মৌলিক অধিকার রক্ষা করা এবং আপনার মৌলিক অধিকার রক্ষা করার জন্যই হাইকোর্ট বসে আছে। এই রাষ্ট্র যদি আপনার কোন মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে, সংসদ যদি কোন আইন পাশ করে আপনার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়, সরকার যদি আপনার মৌলিক অধিকার না দেয়, নির্বাহী বিভাগ যদি কোন বিধি/প্রজ্ঞাপন জারী করে আপনার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, প্রশাসনের কোন পদক্ষেপের কারণে যদি আপনার মৌলিক অধিকার বিনষ্ট হয়, পুলিশের কোন কার্যক্রমে যদি আপনি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, এমনকি আদালতের মাধ্যমেও যদি আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়, তাহলে আপনার এইসব মৌলিক অধিকার বলবৎ করবে কে? হাইকোর্ট বিভাগ। এটাই হাইকোর্টের প্রথম কাজ। হাইকোর্টই আপনার এইসব মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে। কিভাবে? আপনাকে হাইকোর্টে এসে রিট পিটিশন দায়ের করতে হবে, এই রিট পিটিশনে দেখাতে হবে কিভাবে আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। হাইকোর্ট যদি দেখেন যে- আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, স্থানীয় সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি আপনার কোন মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করেছে, তখন হাইকোর্ট সেই ব্যক্তি/বিভাগের প্রতি আদেশ জারী করে আপনার মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে।
মৌলিক অধিকার বলতে আসলে কোন অধিকারগুলোকে বুঝায়? সংবিধানের ২৬-৪৪ অনুচ্ছেদে যেসব অধিকারের কথা বলা হয়েছে সেই অধিকারগুলোকেই হল মৌলিক অধিকার, যেমন- আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, ধর্ম/গোত্র/লিঙ্গ/জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার না হওয়ার অধিকার, সরকারী চাকুরীতে সমান সুযোগের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, গ্রেফতার ও আটক বিরুদ্ধে অধিকার, বিচারের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সমাবেশ করার অধিকার, সংগঠন করার অধিকার, চিন্তা বিবেক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, পেশার স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা, সম্পদের অধিকার, বাসস্থান ও যোগাযোগের অধিকার, ইত্যাদি।
উদাহরণ-১: নির্বাহী বিভাগ, স্থানীয় সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি আইন/বিধি অনুমোদন করে না এমন কোন কাজ করল অথবা আইন/বিধিতে যা বলা আছে তা করল না, যার ফলে আপনার কোন মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হল, এরপর আপনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ওই অধিকার বলবৎ করার জন্য আবেদন করেও কোন প্রতিকার পেলেন না। তারপর আপনি কি করবেন্য? হাইকোর্টে আসবেন, ওই অধিকার রক্ষার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করবেন। হাইকোর্ট যদি আপনার রিট পিটিশনের সত্যতা খুজে পায়, তাহলে আদালত নির্বাহী বিভাগ, স্থানীয় সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ওই ব্যক্তির প্রতি আদেশ জারী করে ওই আইন/বিধি বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অথবা আইন/বিধিতে যা আছে সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করবেন।
উদাহরণ-২: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন ব্যক্তিকে গুম করল বা আটক করে গোপনে রাখল, কোর্টে তুলল না, কাস্টডিতে রাখল, এতে আপনি সংক্ষুব্ধ হলেন, তখন আপনি ওই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এসে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারবেন। হাইকোর্ট বিভাগ এই ঘটনার সত্যতা পেলে ওই বাহিনীকে গুমকৃত বা আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতের সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিবেন, জামিনে মুক্ত করে দিবেন এবং ব্যক্তিটিকে আইনগত ভিত্তি/ক্ষমতার বাইরে বা বে-আইনি পন্থায় আটক রাখা হয়েছিল কি-না তা জানতে চাইবেন।
উদাহরণ-৩: নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি আইনগত ভিত্তি/ক্ষমতা ছাড়া এমন কোন কাজ করলেন বা প্রক্রিয়া গ্রহণ করলেন, এতে আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হল, আপনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পেলেন না, তখন আপনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করবেন। হাইকোর্ট যদি দেখেন যে সত্যিই আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে তখন ওই নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির আইনগত ভিত্তি/ক্ষমতা ব্যতিরেকে করা সেই কাজ বা প্রক্রিয়াকে বে-আইনি ও অবৈধ বলে আদেশ জারী করবেন।
উদাহরণ-৪: কোন ব্যক্তি আইনগত ভিত্তি/কর্তৃত্ব ছাড়া কোন সরকারী অফিসে/পদে অধিষ্ঠিত আছেন, এতে আপনি সংক্ষুব্ধ হলেন, তখন আপনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। হাইকোর্ট যদি দেখেন যে, ওই ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া কোন সরকারী অফিসে/পদে অধিষ্ঠিত আছেন, সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ওই ব্যক্তির উক্ত অফিসে/পদে অধিষ্ঠিত থাকাকে বে-আইনি ও অবৈধ মর্মে আদেশ জারী করবেন।
মোঃ কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী